Image description
 

মিশরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশি স্কলার ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক হাফি.-এর গবেষণামূলক আরবি গ্রন্থগুলো ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের ৮৩টি দেশের অংশগ্রহণে মুখরিত এই মেলায় বাংলাদেশি লেখকের এই দাপুটে উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জ্ঞানতাত্ত্বিক সক্ষমতাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

 

২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলায় আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল মজুমদারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুফতি আব্দুল মালেক হাফি.-এর কালজয়ী গ্রন্থ ‘আল-মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিসিশ শরিফ’ ২০২১ সালের পর ২০২৬ সালের এই আসরেও সেরা বিক্রিত বইয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে। হাদিস শাস্ত্রের ওপর লেখা তাঁর এই গবেষণাধর্মী কাজ ছাড়াও মেলায় আসা তাঁর নতুন গ্রন্থগুলোও আন্তর্জাতিক পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সমাদৃত হচ্ছে। বিদেশি প্রকাশকদের ভিড়ে বাংলাদেশি লেখকের আরবি কিতাব বেস্টসেলার হওয়া দেশের জন্য এক বিরল সম্মান বয়ে এনেছে।

জেনারেল ইজিপশিয়ান বুক অর্গানাইজেশনের (GEBO) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মেলাটি আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ১,৪৫৭টি প্রকাশনী এবং ৬,৬৩৭ জন প্রদর্শকের অংশগ্রহণে সাজানো এই মেলা প্রাঙ্গণকে ৫টি প্রধান হলে ভাগ করা হয়েছে। ৪ নম্বর হলে অবস্থিত ধর্মীয় প্রকাশনা ও আল-আযহার প্যাভিলিয়নটি আন্তর্জাতিক পাঠকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে, যেখানে মুফতি আব্দুল মালেকের বইগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। এবারের মেলাটি মিশরের নোবেলজয়ী সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজ-কে উৎসর্গ করা হয়েছে।

 

মেলায় পাঠকদের বইমুখী করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রকাশনীগুলোতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মিশর সরকারের বিশেষ প্রকল্প ‘A Library for Every Home’-এর অধীনে মাত্র ১০০ পাউন্ডে ২০টি বইয়ের বিশেষ প্যাকেজ এবং মাত্র ১ পাউন্ডেও বই কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং ইউরোপের জ্ঞানপিপাসু মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া কায়রো বইমেলায় ৪০০টিরও বেশি সাংস্কৃতিক কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অক্ষরের এই মহাযজ্ঞের পর্দা নামবে।