Image description

গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা তদারকির লক্ষ্যে নবগঠিত 'শান্তি বোর্ডে' (বোর্ড অফ পিস) যোগ দিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আঙ্কারা ও কায়রো কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর আলজাজিরা। 

তুরস্কের রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান শুক্রবার ট্রাম্পের কাছ থেকে এই বোর্ডের ‘প্রতিষ্ঠাতা সদস্য’ হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। অন্যদিকে, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রেসিডেন্ট সিসিও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একই ধরনের একটি আমন্ত্রণ পেয়েছেন যা বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডে অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অক্টোবর মাসে ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এই শান্তি বোর্ড তারই একটি অংশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট বডি তৈরি করা হবে, যাকে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তদারকি করবেন। হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, এই বোর্ডে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং ধনকুবের মার্ক রোয়ানও থাকবেন। এছাড়াও নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজার জন্য উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে বোর্ডের আরও সদস্যদের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মহলে বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ একে 'উপনিবেশিক কাঠামোর' সঙ্গে তুলনা করেছেন। গাজার ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে যে, বোর্ডের সদস্যরা ন্যায়বিচার বা পুনর্গঠনের চেয়ে নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি জোর দিতে পারেন। 

এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বোর্ডের গঠনের বিষয়ে সরাসরি আপত্তি তুলেছেন। তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই বোর্ডের সদস্য নির্বাচন ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়নি এবং এটি তাদের নীতির পরিপন্থী। বিশেষ করে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নেতানিয়াহু সরকারের ঘোর আপত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।