চলমান মানবিক সংকট এবং অবিরাম ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘দ্বিতীয় ধাপ’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এই ঘোষণাকে ঘিরে চরম সন্দেহ ও অবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, যেখানে প্রথম ধাপের শর্তগুলোই এখনো পূরণ হয়নি, সেখানে দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণা কেবল প্রহসন মাত্র।
ফায়েক আল-হেলু নামে এক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তারা তো এখনও প্রথম ধাপই শুরু করেনি, দ্বিতীয় ধাপ কীভাবে শুরু করবে? আমরা চাই না অতীতের মতো এবারও সব কেবল কাগজের প্রতিশ্রুতি হয়েই থাকুক।”
আরেক ফিলিস্তিনি জাবের মোহাম্মদের মতে, এই ঘোষণা পুরোটাই “মিথ্যা”। তিনি বলেন, “আমরা গত দুই বছর ধরে ভুগছি এবং এখন তৃতীয় বছরে পা দিলাম। খাবার নেই, পানি নেই, তার ওপর জিনিসের আকাশছোঁয়া দাম—আমাদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই।”
ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে যুদ্ধ বন্ধ করা, বন্দি বিনিময়, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সীমানা নির্ধারণ, পূর্ণাঙ্গ ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ এবং রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এসব লক্ষ্যের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি:
গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৫১ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও বাস্তবে হামলা বন্ধ হয়নি।
হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর এক সদস্য জানান, গাজা থেকে সব ইসরায়েলি বন্দিকে (একজনের দেহাবশেষ ছাড়া) ফেরত পাঠানো হলেও, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল সব ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়নি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা বরাবর ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান নেওয়ার কথা ছিল, যা গাজার অর্ধেকেরও বেশি অংশজুড়ে বিস্তৃত। কিন্তু আল জাজিরার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনী সীমানা চিহ্ন সরিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরও বাড়াচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজায় “অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ত্রাণ” পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, ইসরায়েল ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। প্রতিশ্রুত সংখ্যার অর্ধেকেরও কম ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে পারছে।
চুক্তিতে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও, ইসরায়েল তা বন্ধ করে রেখেছে।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নতুন কোনো ধাপের ঘোষণা তাদের দুর্দশা লাঘবে কোনো আশার আলো দেখাতে পারছে না।
সূত্র : আল জাজিরা