Image description
 

ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হচ্ছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নির্দেশনায় লিথ্যাল উইপন ব্যবহার করছে সরকারি বাহিনীগুলো। এতে অন্তত ১২ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি।

মঙ্গলবার ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ ও ৯ জানুয়ারি দুই রাত্রিতে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সরকারি গোপন সূত্র, বিক্ষোভকারীদের পাঠানো তথ্য এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ দাবি উঠেছে।

ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি অভিযোগ করেছেন, দেশটির কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে গণহত্যা চালাচ্ছে এবং এর চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে এবাদি লিখেছেন, “ইরান একটি সংগঠিত নীরবতায় পড়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ অচল, সাক্ষীদের ভয় দেখানো এবং গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া মানে সরকার নীরবে হত্যাকাণ্ড চালাতে চায় এবং পরে তার চিহ্ন মুছে ফেলতে চায়।” তিনি এটিকে “সংগঠিত হত্যাকাণ্ড” বলে বর্ণনা করেছেন, যা সরাসরি গুলি চালানোর মাধ্যমে ইন্টারনেট শাটডাউনের আড়ালে ঘটছে।

 

তিনি বলেছেন, সংস্থাটি মাঠপর্যায়ের তথ্য, চিকিৎসা তথ্য, পরিবার ও সাক্ষীদের বয়ান এবং উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা ও সরকারি সূত্রের তথ্য পর্যালোচনা করে উপসংহারে পৌঁছেছে যে, ৮ ও ৯ জানুয়ারি দুই রাত্রিতে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এটিকে ইরানের সমকালীন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

তিনি শুধু মৃত্যুর সংখ্যাই নয়, সহিসংতার ধরনকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। এবাদি অবিলম্বে ইন্টারনেট সেবা পুনর্বহাল, স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।