অবশেষে আদালতের আদেশে প্রায় তিন বছর পর খুলনা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন পাইকগাছা মধুমিতা পার্কের জায়গায় স্থাপিত আওয়ামী লীগ কার্যালয় উচ্ছেদ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে কার্যালয়টি উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ কাজ পরিচালনা করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৮০ সালে মধুমিতা পার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সালে একশ্রেণির লোক পার্কের জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা করে। এর প্রতিবাদে গঠিত হয় মধুমিতা পার্ক সংরক্ষণ কমিটি। হয় ব্যাপক আন্দোলন ও সংগ্রাম।
অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সহকারী জজ আদালত পাইকগাছায় করা হয় মামলা। আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। এ আদেশ অমান্য করে দোকানঘর নির্মাণ ও ব্যবসা বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে সংরক্ষণ কমিটি ২০০৫ সালে হাইকোর্টে ৩৫৯০/০৫ রিট পিটিশন করেন। হাইকোর্ট মামলাটির শুনানি অন্তে ২০০৫ সালের ২৪ মে মধুমিতা পার্কের অভ্যন্তরে অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করার আদেশ দেন। এরপরও অব্যাহত থাকে সব কর্মকাণ্ড।
অব্যাহত থাকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ১০২/২২ কনটেন্ট পিটিশন করা হলে ১৩ মার্চ ২৩ হাইকোর্ট মামলার বিবাদীদের ২০ দিনের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পার্কটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশে ২০ মে ২০২৩ তারিখ খুলনা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আল-আমিন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। উচ্ছেদ করেন ৩০টি পাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ওই সময় উচ্ছেদ করা হয়নি উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়।
এরপর দীর্ঘ ২ বছর ৮ মাস চলে গেলেও আওয়ামী লীগের তিনতলা বিশিষ্ট কার্যালয়টি উচ্ছেদ করা হয়নি দলটি ক্ষমতায় থাকায়। ওই বছর সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে জেলা পরিষদকে লিখিতভাবে জানানো হয়। জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুরোধ করেন; কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। এরপর মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের তিনতলা বিশিষ্ট কার্যালয়টি উচ্ছেদ করা হয়।