Image description

ইরানে চলমান তীব্র বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করার পর এবার ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটও সফলভাবে জ্যাম করে দিয়েছে দেশটির সরকার। মূলত ‘কিল সুইচ’ কৌশল এবং জিপিএস সংকেতে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের যোগাযোগের এই শেষ মাধ্যমটিকেও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। 

৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া সরকার বিরোধী এই বিক্ষোভে সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভের তথ্য প্রচার আটকাতে তেহরান প্রথমে মোবাইল টাওয়ার ও ল্যান্ড কেবলের ইন্টারনেট তিন দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন করে এবং পরবর্তীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে স্টারলিংকের সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত করার পথে হাঁটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংক ইন্টারনেট জ্যাম করা তুলনামূলক সহজ কারণ এর বেস স্টেশনগুলোকে নিকটতম গ্রাউন্ড স্টেশন শনাক্ত করার জন্য জিপিএস সংকেতের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শেয়ার করতে হয়। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এই জিপিএস সংকেতে হস্তক্ষেপ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংকট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক জানিয়েছেন, মোবাইল ফোন জ্যাম করার জন্য ব্যবহৃত বাণিজ্যিক সরঞ্জামগুলো সামান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে স্টারলিংক সিস্টেমের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা সম্ভব। যেহেতু স্টারলিংকের অ্যান্টেনাগুলো বিস্তৃত কোণ থেকে সিগন্যাল গ্রহণ করে, তাই ভূমিতে থাকা জ্যামিং ডিভাইসগুলো সহজেই এর সেবাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জ্যামিং প্রচেষ্টার অভিজ্ঞতার আলোকে ইরান এই প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহ নিয়ে তেহরান ও মস্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে জ্যামিং সরঞ্জাম ও কারিগরি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি জোরালো হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনী তীব্র জ্যামিং চালালেও কিয়েভের সেনারা এখনো স্টারলিংক ব্যবহার করতে পারছে, কারণ সেখানে জ্যামারগুলো রিসিভারের খুব কাছে স্থাপন করা কঠিন ছিল। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গ্রাউন্ড রিসিভারের কাছাকাছি জ্যামার বসানো সহজ হওয়ায় স্টারলিংক ঠেকানো তেহরানের জন্য সহজতর হয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেও স্টারলিংকের সেবাকে চ্যালেঞ্জ করছে ইরান।