কোল্ড ওয়ার বা শীতল যুদ্ধের মানচিত্রে দক্ষিণ এশিয়া ছিল সবচেয়ে উর্বর গুপ্তচর ক্ষেত্রগুলোর একটি। উপনিবেশ থেকে সদ্য বেরিয়ে আসা রাষ্ট্র, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বড় শক্তিগুলোর ভূকৌশলগত টানাপড়েন—সব মিলিয়ে এ অঞ্চল হয়ে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পরীক্ষাগার। সে সময় পেরিয়ে গেছে বহু দশক। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙেছে, দ্বিমেরু বিশ্ব ব্যবস্থা অনেকটা ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক জল্পনায় সে সময়ের গোয়েন্দা তৎপরতা এখনো জ্বলমান। এ অঞ্চলের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব থেকে সে সন্দেহ মুছে যায়নি। যার শেকড় ঔপনিবেশিক যুগের দমনমূলক নজরদারি ব্যবস্থায় এবং শীতল যুদ্ধের গোপন অভিযানে প্রোথিত। ব্রিটিশ শাসনে গোয়েন্দা নজরদারি ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান হাতিয়ার। জাতীয়তাবাদী নেতাদের ওপর নজরদারি, চিঠিপত্র খোলা, পরিবারকে হয়রানি এবং আন্দোলন দমন এ ব্যবস্থার অংশ ছিল। সে অভিজ্ঞতা ভারতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্থায়ী স্মৃতি তৈরি করে, যা শীতল যুদ্ধের সময় পশ্চিমা গোয়েন্দা তৎপরতার সঙ্গে মিলিয়ে আজও ‘সন্দেহ ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব’কে জীবিত রাখছে। একই সঙ্গে শীতল যুদ্ধের সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সরকার বদল বা বদলের চেষ্টা ও গোপন তৎপরতার ইতিহাসও সে সন্দেহকে ঘনীভূত করেছে। ফলে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতন, পাকিস্তানে ইমরান খানের অপসারণ কিংবা ভারতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে প্রথম যে প্রশ্নটি ঘুরেফিরে আসে তা হলো, ‘এর পেছনে কি সিআইএ বা এমআই-৬ কাজ করছে?’ অনেক সময় ক্ষমতাচ্যুত বা চাপে থাকা শাসকরা নিজেদের ব্যর্থতা ও জন-অসন্তোষ আড়াল করতেও ‘বিদেশী ষড়যন্ত্র’কে সামনে টেনে আনেন; অনেকের কাছে যা বিশ্বাসযোগ্যও মনে হয়। কারণ এ অঞ্চলের ইতিহাসে এ ধরনের হস্তক্ষেপের উদাহরণগুলো জন-আলোচনায় বারবার উঠে আসে।
এ মানসিকতার উৎস কোথায়? কেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এখনো রেজিম চেঞ্জের সঙ্গে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার নাম জড়িয়ে যায়? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শীতল যুদ্ধের ইতিহাসে ফিরে তাকাতে বলেন কিংস কলেজ লন্ডনের ইন্টেলিজেন্স স্টাডিজের গবেষক ড. পল ম্যাকগার। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের প্রকাশনা প্লাটফর্ম সাউথ এশিয়ান ভয়েসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় পশ্চিমা গোয়েন্দা তৎপরতা এত গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ছিল যে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিধ্বনি আজও পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি।’ তার মতে, এ প্রবণতা কাকতালীয় নয়। ব্রিটিশ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার শীতল যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ডই এ মানসিকতার ভিত্তি তৈরি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা এত গভীর ছিল যে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি আজও রয়ে গেছে।
ম্যাকগারের মতে, ১৯৪৭-এর পর ভারত ও পাকিস্তান ছিল পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য এক ধরনের ‘শীতল যুদ্ধের গবেষণাগার’। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ৫ ও এমআই ৬ তিনটি ভিন্ন পথে এখানে কাজ করছিল। প্রথমত ছিল সরাসরি গুপ্তচরবৃত্তি। স্বাধীনতার পর ভারত নিজেকে ‘জোট-নিরপেক্ষ’ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে দিল্লি হয়ে উঠেছিল পূর্ব ও পশ্চিমা ব্লকের এক মিলনস্থল। কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বামপন্থী কর্মী সবাই এখানে ভিড় করতেন। ম্যাকগার বলেন, ‘তখনকার দিল্লিকে অনেকেই প্রাচ্যের বার্লিন বলতেন। ব্রিটিশ গুপ্তচর জর্জ ব্লেক পর্যন্ত বলেছিলেন, বার্লিনের পর এজেন্ট নিয়োগের সবচেয়ে ভালো জায়গা ছিল দিল্লি। ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মুক্ত গণমাধ্যম এ কর্মকাণ্ডকে আরো সহজ করে দিয়েছিল।’
দ্বিতীয় স্তর ছিল গোয়েন্দা সহযোগিতা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের গোয়েন্দা কাঠামোর উত্তরাধিকার বহন করছিল ভারত। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও যোগাযোগ বজায় রাখতে আগ্রহী ছিল। বিশেষ করে সোভিয়েত ব্লক ও চীনের গতিবিধি নিয়ে। কিন্তু সবচেয়ে বিতর্কিত ছিল গোপন অভিযান। ম্যাকগার জানান, শীতল যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে গোপন অপারেশনে যুক্ত ছিল, যার মধ্যে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ছিল। ১৯৬৫-এ হিমালয়ের নন্দা দেবীর শৃঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো যৌথভাবে একটি নজরদারি যন্ত্র বসানোর গোপন অভিযান শুরু করেছিল; যাতে ছিল একটি প্লুটোনিয়ামচালিত ডিভাইস, যার মাধ্যমে সম্ভব হলে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষার সিগন্যাল ধরা হতো। কিন্তু প্রচণ্ড তুষারঝড়ের কারণে সেই অভিযান ব্যর্থ হয় এবং যন্ত্রটি পাহাড়ের বরফে হারিয়ে যায়। নিউইয়র্ক টাইমসে সম্প্রতি প্রকাশিত এ নজরদারি যন্ত্র বসানোর গল্প আসলে সেই পুরনো ইতিহাসেরই অংশ।
চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অবনতি হওয়ার পর এ সহযোগিতা আরো বেড়ে যায়। লক্ষ্য ছিল বেইজিং ও ভারতের ভেতরের কমিউনিস্ট প্রভাব। ১৯৫৭ সালে কেরালায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার গঠিত হলে দিল্লি ও ওয়াশিংটন দুই পক্ষই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ম্যাকগারের ভাষায়, তখন পশ্চিমা ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মিলে সেই সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল। তবে একই সঙ্গে ভারতীয় সরকার জানত, সিআইএ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দারা তাদের অজান্তেও গুপ্তচরবৃত্তি ও গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। ফলে একধরনের ছায়াযুদ্ধ তৈরি হয়েছিল। মিত্রতা আর অবিশ্বাস একসঙ্গে চলছিল।
এ অভিজ্ঞতাই দক্ষিণ এশিয়ায় আজকের ‘গোয়েন্দা সন্দেহ’ বা ‘কাউন্টারকালচার’-এর ভিত্তি বলে মনে করেন ম্যাকগার। এর শেকড় আরো গভীরে, ঔপনিবেশিক যুগে। ব্রিটিশ শাসনে গোয়েন্দা নজরদারি ছিল শাসনের প্রধান হাতিয়ার। গান্ধী, নেহরুদের চিঠি খোলা হতো, পরিবারকে হয়রানি করা হতো, আন্দোলন দমন করা হতো গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে। এ দমনমূলক রাষ্ট্রের স্মৃতি ভারতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর ছাপ রেখে গেছে বলে মনে করে ড. পল ম্যাকগার।
স্বাধীনতার পর ঔপনিবেশিক নজরদারির সেই স্মৃতির ওপর চেপে বসে শীতল যুদ্ধের বাস্তবতা। উন্নয়নশীল বিশ্বে তখন সরকার বদল বা সরকার বদলানোর চেষ্টা ঘটছিল একাধিক স্থানে, যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্থায়ীভাবে সতর্ক করে তোলে। ইরানে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক তেল শিল্প জাতীয়করণ করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সমর্থিত গোপন তৎপরতায় তার সরকার উৎখাত হয় এবং শাহকে ক্ষমতায় ফেরানো হয়। গুয়াতেমালায় প্রেসিডেন্ট হাকোবো আরবেনস ভূমি সংস্কার চালুর পর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গোপন অভিযানে তার সরকার ভেঙে পড়ে। পরে সামরিক শাসনের পথ প্রশস্ত হয়। কঙ্গোতে স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় পশ্চিমা শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। আর কিউবায় বে অব পিগস অভিযানে কাস্ত্রো সরকার উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কিউবান নির্বাসিতদের আক্রমণ ব্যর্থ হলেও এটি দেখিয়ে দেয় যে ওয়াশিংটন প্রভাব বিস্তারের জন্য সরকার বদলাতে প্রস্তুত ছিল। ম্যাকগার মনে করেন, এ অভিজ্ঞতাগুলো দেখেই নেহরু ও তার প্রজন্ম বুঝেছিল শীতল যুদ্ধের যুগে ‘রেজিম চেঞ্জ’ কোনো গুজব নয়; উন্নয়নশীল বিশ্বে এটি ছিল বড় শক্তিগুলোর বাস্তব কৌশল।
১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে ভারতের ভেতরের রাজনীতিতেও সিআইএ প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় ছিল। এ সময় সংস্থাটি শুধু তথ্য সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণকে নিজেদের অনুকূলে রাখার চেষ্টাও করেছে। ম্যাকগারের মতে, ডানপন্থী প্রার্থীদের অর্থায়ন, কংগ্রেসকে নানাভাবে সহায়তা এবং সমাজতান্ত্রিক দলগুলোকে দুর্বল করার মতো উদ্যোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ তৎপরতা এতটাই বিস্তৃত ছিল যে জন এফ কেনেডির রাষ্ট্রদূত হিসেবে ভারতে দায়িত্ব নেয়ার পর জন কেনেথ গ্যালব্রেইথ সিআইএ স্টেশনের নথিপত্র দেখে বিস্মিত হন এবং সংস্থাটির অতিরিক্ত তৎপরতা ‘বন্ধ’ বা অন্তত ‘নিয়ন্ত্রণে’ আনার চেষ্টা করেন। গ্যালব্রেইথের আপত্তি ছিল দুদিক থেকে—তিনি একদিকে এটিকে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য মনে করতেন, অন্যদিকে বাস্তববাদী যুক্তিতে বলতেন, এটি কার্যকরও নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক খেলায় জড়াচ্ছে, যা ভারতের রাজনীতিকে প্রভাবিত করার বদলে উল্টো ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
এ পটভূমিতেই ইন্দিরা গান্ধীর ভয় ও কৌশল তৈরি হয়। ১৯৭১ সালে রিচার্ড নিক্সনের ‘পাকিস্তানমুখী’ অবস্থান এবং ১৯৭৩ সালে চিলিতে সালভাদোর আলেন্দের পতনের ঘটনাপ্রবাহ ইন্দিরা গান্ধীর সন্দেহকে আরো তীব্র করে তোলে। তিনি তখন অতীতের উদাহরণগুলো সামনে রেখে ভাবতে শুরু করেন—উন্নয়নশীল বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যখন বারবার সরকার বদলের খেলায় জড়িয়েছে, তখন ভারতও কি সেই তালিকায় পড়তে পারে না? ম্যাকগার বলেন, ইন্দিরা গান্ধী শুধু আতঙ্কিত ছিলেন এমন নয়; তিনি ছিলেন বাস্তববাদী ও দক্ষ রাজনৈতিক অপারেটরও। তাই তিনি বুঝতেন, দেশের ভেতরে যখন অর্থনীতি বা শাসন ব্যবস্থা নিয়ে চাপ বাড়ে, তখন ‘বিদেশী হাত’ বা বাহ্যিক ষড়যন্ত্রের বয়ান জনমনে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং তা ব্যবহার করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও শক্ত করা যায়—ফলে ‘ভয়’ ও ‘সুবিধা’ দুই মিলে এ বয়ান তখন আরো জোরদার হয়।
এখান থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একধরনের রিফ্লেক্স জন্ম নেয়। অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সংকট এলেই দায় দেয়া হয় বাইরের শক্তিকে। এ মানসিকতা আজও সক্রিয়। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতন হোক বা পাকিস্তানে ইমরান খানের বিদায়—অনেকে স্বভাবতই যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অবধারিতভাবেই তাকায়। ম্যাকগার বলেন, শেখ হাসিনা ১৯৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি বয়ে বেড়ান, যখন তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। তাই আজকের ঘটনাও অনেকে সেই ইতিহাসের আলোকে ব্যাখ্যা করেন, যদিও সরাসরি সিআইএ জড়িত থাকার প্রমাণ নেই। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ডোনাল্ড লু ইমরান খানের রাশিয়া সফর নিয়ে মতামত দিয়েছিলেন—এটিকে অনেকেই ওয়াশিংটনের নির্দেশ হিসেবে দেখান। ম্যাকগার বলেন, গোয়েন্দারা রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলবেই; সেটাকে নিয়ন্ত্রণ বা নির্দেশ হিসেবে ধরা একধরনের অতিরঞ্জন।
তবু এ সন্দেহ পুরোপুরি কল্পিতও নয়। ভেনিজুয়েলা, ইরান, কঙ্গো, গুয়াতেমালার ইতিহাস মানুষ ভুলে যায়নি। তাই বাস্তব ইতিহাস ও রাজনৈতিক অপব্যবহারের এ মিশ্রণই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকে বিষাক্ত করে তুলছে।
মূলত শীতল যুদ্ধের সময়কার গোয়েন্দা রাজনীতি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানসিকতায় এমনভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে যে আজকের ঘটনাগুলোও মানুষ সেই পুরনো ছাঁচে দেখতে অভ্যস্ত। ঔপনিবেশিক যুগের দমনমূলক নজরদারি, এরপর শীতল যুদ্ধের গোপন অভিযান, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং রেজিম বদলের নজির—এ দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অঞ্চলটির সমাজ ও রাজনীতিকে একটি স্থায়ী সন্দেহের সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত করে তুলেছে। ম্যাকগার মনে করেন, পশ্চিমা নীতিনির্ধারকেরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অতীতের এ অধ্যায়গুলো ভুলে গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও রাজনীতিকরা তা ভোলেন না; তারা বর্তমান সংকটকে ব্যাখ্যা করতে বারবার সে ইতিহাসে ফিরে যান। এর ফলেই আজও বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা ভারতের রাজনৈতিক ঝড়ের মুহূর্তে সিআইএ কিংবা এমআই ৬-এর নাম অনিবার্যভাবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।