যুক্তরাজ্যের লেস্টারশায়ারের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বইছে উত্তপ্ত ঝড়। প্রাথমিক স্কুলে মুসলিম শিশুদের নামাজ পড়ার সঙ্গে ‘উগ্রবাদে’র সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, রিফর্ম ইউকে-র নেতা কার্ল অ্যাবটের এমন বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে দিচ্ছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী রাজনীতিক ও চার্নউড বরো কাউন্সিলের লিডার জুয়েল মিয়া।
সম্প্রতি একটি স্পর্শকাতর কাউন্টার-টেরোরিজম ব্রিফিংয়ে কার্ল অ্যাবট দাবি করেন, প্রাথমিক স্কুলে শিশুদের নামাজ শিখলে তারা ভবিষ্যতে উগ্রবাদের দিকে ধাবিত হতে পারে এবং অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে। তার এই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে।
জুয়েল মিয়া এই মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিদ্বেষমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক ভুল নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। অ্যাবটকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমি নিজেও এই দেশে স্কুলে নামাজ পড়ে বড় হয়েছি এবং আমাদের প্রজন্মের কেউ উগ্রবাদে জড়ায়নি। আপনি নিজের কুসংস্কার দিয়ে পুরো একটি ধর্মকে বিচার করতে পারেন না।
কাউন্সিলের অ্যাডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার বিভাগের দায়িত্বে থাকা কার্ল অ্যাবটের জন্য এ ধরনের বিতর্ক নতুন কিছু নয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অভিবাসী বিরোধী এবং ‘রেড পিল’ মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সমালোচকদের মতে, স্কুলের নামাজ নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্য কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি তার দীর্ঘদিনের বিভেদমূলক এজেন্ডারই অংশ।
লফবরোর রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ জুয়েল মিয়া দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকার আদায়ে কাজ করছেন। বাংলাদেশ সোশ্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর সাবেক ট্রাস্টি হিসেবে পরিচিত জুয়েল মিয়া এখন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। তার এই দৃঢ় অবস্থানের কারণে লেস্টারশায়ারের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কনজারভেটিভ ও গ্রিন পার্টির সদস্যরাও তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
জুয়েল মিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কার্ল অ্যাবটের বর্তমান পদে থাকার কোনও নৈতিক অধিকার নেই। তিনি বলেন, তার অবস্থান এখন সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা যখন জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট ও জনগণের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি, তখন তিনি শিশুদের ধর্ম নিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছেন।
পুরো ব্রিটেন যখন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন জুয়েল মিয়ার এই সাহসী প্রতিবাদ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এই জনরোষের মুখে রিফর্ম ইউকে এবং লেস্টারশায়ার কাউন্সিল শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।