Image description

অনেক নির্বাচন বিশ্লেষকের ধারণা, এবারের জাতীয় নির্বাচনে ভোটের টার্নিং ফ্যাক্টর হবেন তরুণ ভোটাররা। যাদের অনেকেই এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন। আবার অনেকেই আগেই ভোটার হলেও গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ দেখাননি।

 

এমনই কয়েকজন তরুণ ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছে চ্যানেল 24। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণী বলেন, দেশে দুর্নীতি যেহেতু অনেক বেশি, সেক্ষেত্রে তিনি এমন প্রার্থীকে পছন্দ করবেন যিনি সৎ, ন্যায়পরায়ণ এবং যার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ব্যাকগ্রাউন্ড পরিষ্কার। তিনি বলেন, “আমি এমন কাউকে চাই, যিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।”

আরেক তরুণ বলেন, আমরা যাকে সমর্থন করছি তিনি যদি ক্ষমতায় আসতে পারেন, তাহলে দেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে তারা আশা করেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন রাজনীতি চাই, যেখানে ইশতেহারের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিহিংসামুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসবে।”

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪২১ জন। এর মধ্যে ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ১২ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকাই ছিল মূল চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, তরুণদের যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো অমলান রয়েছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা একটি নতুন বাংলাদেশ—যেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা কার্যকর হবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নই মূলত দেশের তারুণ্যের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, তারুণ্যের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে কোনো বিকল্প নেই। কারণ এই তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা সবসময় গেম চেঞ্জার ছিল। কলোনিয়াল টাইম থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রতিটি ইতিবাচক অর্জনের পেছনেই তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। এবারও ২০২৪ সালে তরুণরাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। 

ভবিষ্যতেও তারা অনুঘটক ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উপযোগী পরিবেশ ও সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এদিকে তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে। সেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।