ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আমাকে ধরতে আসুন। আমি এখানেই অপেক্ষা করছি।’
সোমবার এক বিবৃতিতে পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলা অভিযানকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বোমা হামলা চালায়, তাহলে গ্রামের কৃষকরা পাহাড়ে হাজার হাজার গেরিলায় পরিণত হবে। আর দেশটির যাকে মানুষ ভালোবাসে ও সম্মান করে, সেই প্রেসিডেন্টকে আটক করা হলে জনগণের ‘জাগুয়ার’ ছেড়ে দেওয়া হবে।
এক সময়ের বামপন্থী গেরিলা পেত্রো বলেন, তিনি অস্ত্র হাতে না নেওয়ার শপথ করেছিলেন। তবে দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আবার অস্ত্র ধরতেও তিনি প্রস্তুত।
ভেনিজুয়েলায় অভিযানের পর রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া এমন একজন মানুষের হাতে পরিচালিত হচ্ছে, যে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন তৈরি ও বিক্রি করতে পছন্দ করে। তিনি বলেন, কলম্বিয়াও খুব অসুস্থ এবং এই অবস্থা বেশিদিন চলবে না। একই সঙ্গে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর প্রস্তাব তার কাছে ‘ভালো শোনাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
এ পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটি সংলাপ, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে হুমকি বা শক্তি প্রয়োগকে তারা অগ্রহণযোগ্য মনে করে।
এর আগে গত অক্টোবরে অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পেত্রো ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, কলম্বিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোকেন উৎপাদক দেশ।
এর আগে গত আগস্টে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোও ট্রাম্পকে ‘আমাকে ধরতে আসুন’ বলে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র তার গ্রেপ্তারের জন্য পুরস্কারের অঙ্ক বাড়ানোর পর এক ভাষণে মাদুরো বলেন, তিনি মিরাফ্লোরেস প্রাসাদেই অপেক্ষা করবেন।
রোববার হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মাদুরোকে বিদ্রূপ করে। সেখানে মাদুরোর বক্তব্যের পাশাপাশি তাকে ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের অভিযানের দৃশ্য দেখানো হয়। ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বলতে শোনা যায়, মাদুরোর সুযোগ ছিল, কিন্তু তা আর নেই।
সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত অভিযানে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাম্প জানান, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও নার্কো-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাদের বিচার হবে।
বার্তা বাজার