Image description

ইরানের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তান’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরানি জাতি বরাবরের মতোই শত্রুদের হতাশ করবে।

গালিবাফ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ইরানের ব্যবসায়ী ও দোকানদারেরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছেন। তিনি বলেন, শয়তান (ট্রাম্প) এখন গলা চড়াচ্ছে, কারণ, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। তারা চেয়েছিল ব্যবসায়ীদের এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংস ও সশস্ত্র যুদ্ধে রূপ দিতে। কিন্তু অভিজ্ঞ ইরানি জাতির সজাগ দৃষ্টির কারণে তাদের সেই অপচেষ্টা ভেস্তে গেছে।

সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে গালিবাফ হুঁশিয়ারি দেন, ইরানিরা ঐক্যবদ্ধ এবং বিদেশি শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘অসভ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের জেনে রাখা উচিত, তাঁর এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তির পর ওই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি ও বাহিনী আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। যেকোনো সম্ভাব্য হঠকারিতার জবাবে আমরা এসব লক্ষ্যে আঘাত হানতে দ্বিধা করব না।’

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার গালিবাফ বলেন, ইরানি জাতি এর আগেও অনেক পেশাদার ও অভিজ্ঞ শত্রুকে পরাজিত করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবাদী সাধারণ জনগণকে কখনোই বিদেশি চর বা ভাড়াটে গুন্ডাদের সঙ্গে এক করে দেখি না। আমাদের প্রিয় জনগণকে আমরা সব সময় আগলে রাখব।’

প্রসঙ্গত, ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে চলমান বিক্ষোভে মার্কিন সমর্থন ও ট্রাম্পের নানা উসকানিমূলক বিবৃতির পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। গালিবাফের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের জন্য নতুন করে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে প্রাণহানির পর আজ শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং তাঁদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপ করবে।

নিজ মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং তাঁদের সহিংসভাবে হত্যা করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই বসে আছি।’

গত রোববার থেকে ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি ও আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। টানা পাঁচ দিনের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।