Image description

২০২৬ সাল ঘনিয়ে আসতেই বিশ্বজুড়ে জ্যোতিষবিদ্যা ও নক্ষত্রবিশ্বাসীরা নতুন বছরের ভাগ্য গণনায় ব্যস্ত। ঠিক এমন সময় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন ১৬শ শতকের ফরাসি ভবিষ্যদ্বক্তা নস্ট্রাদামুস। তাঁর অনুসারীদের দাবি, ২০২৬ সালকে ঘিরে তিনি রেখে গিয়েছেন একাধিক উদ্বেগজনক ভবিষ্যদ্বাণী।

 

ফরাসি চিকিৎসক ও জ্যোতিষী মিশেল ডি নস্ট্রেডাম, যিনি নস্ট্রাদামুস নামেই পরিচিত, ১৫৫৫ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লে প্রফেটিস’-এ ৯৪২টি ভবিষ্যদ্বাণী লিপিবদ্ধ করেছিলেন। প্রাচীন ফরাসি ভাষা আর ল্যাটিন বাক্যাংশে লেখা এসব ভবিষ্যদ্বাণীর নানা ব্যাখ্যা নিয়ে আজও বিস্তর আলোচনা রয়েছে। তাঁর অনুসারীদের দাবি, নস্ট্রাদামুস ৯/১১ হামলা থেকে শুরু করে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর ঘটনাও পূর্বাভাস করেছিলেন।

ব্যাখ্যাকারীরা বলছেন, নস্ট্রাদামুস ২০২৬ সালকে সামনে রেখে বিশাল সংঘাত, নতুন বিশ্বব্যবস্থা ও একজন প্রভাবশালী নেতার উত্থানের কথা বলেছেন। তাঁর লেখার ২৬তম কোয়াট্রেনকে অনেকেই ২০২৬ সালের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।

 

সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “মৌমাছির বিশাল ঝাঁক উঠে আসবে… রাতের বেলায় আক্রমণ করবে…”। ব্যাখ্যাকারীদের মতে, এই ‘মৌমাছি’ আসলে বিশ্বনেতাদের প্রতীক—যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্প বা ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁদের ধারণা, ২০২৬ সালে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল বা সাফল্য পেতে পারেন এরা। কেউ কেউ আবার বলছেন, এটি গাজা সঙ্কট সমাধানে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভূমিকা কিংবা চার বছর পর ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার পক্ষে গড়ানোর ইঙ্গিতও হতে পারে।

 

নস্ট্রাদামুসের আরেক কোয়াট্রেনে বলা হয়েছে, “সাত মাসের মহাযুদ্ধ, দুষ্টতার কারণে মানুষ মারা গেছে…”। ব্যাখ্যাকরীদের মতে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সংঘাতের ইঙ্গিত যেখানে একাধিক বিশ্বনেতা জড়িত থাকতে পারেন—যেমন জেলেনস্কি, পুতিন, নেতানিয়াহু কিংবা ট্রাম্পও।

এ ছাড়া এক ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, “মঙ্গল যখন তার পথ পরিচালনা করবে, মানুষের রক্ত পবিত্র স্থানে ছড়িয়ে পড়বে…”। এটি পূর্ব–পশ্চিমের উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র–চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এর সঙ্গে মিলে যেতে পারে।

ফরাসি ভাষায় লেখা আরেক বিবৃতিতে নস্ট্রাদামুস লিখেছিলেন, “শহরের অনুগ্রহের ফলে টিকিনো রক্তে ভরে উঠবে…”। ব্যাখ্যাকারীদের মতে, এটি সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় টিকিনো এলাকায় সম্ভাব্য ইউরোপীয় সংঘাতের ইঙ্গিত, যা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উত্তেজনা থেকে শুরু হতে পারে।

বিপদের মধ্যেও ২০২৬ সালের জন্য নস্ট্রাদামুস একটি ইতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীও রেখেছেন। তিনি লিখেছিলেন, “ছায়া সরে যাবে, আলো থেকে একজন মানুষ উঠে আসবে…”। এটি এমন একজন নতুন নেতার উত্থানের ইঙ্গিত বলে ব্যাখ্যা করা হয়, যিনি অস্থির বিশ্বকে শান্তির পথে নিয়ে যেতে পারেন।

২০২৫-এর ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্যি হয়েছিল?

নস্ট্রাদামুসের অনুসারীরা দাবি করেন, ২০২৫ সালের জন্য তাঁর করা পূর্বাভাস—জলবায়ু বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক সংঘাত ও প্রযুক্তিগত উন্নতি—অংশত সত্য হয়েছে। এবছর ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ইউক্রেন–রাশিয়া–ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ এবং পূর্ব–পশ্চিমের উত্তেজনা এই দাবিকে আরও জোরালো করেছে।