
সিরিয়ায় তুরস্কের বিমানঘাঁটি স্থাপন পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকার মদদে মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদ ও গণহত্যায় মেতে থাকা ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) অবৈধ রাষ্ট্রটির সংবাদমাধ্যমে নিরাপত্তা বিভাগের সূত্রে একথা জানানো হয়।
খবরে বলা হয়, তুরস্ক যদি তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক সিরিয়ায় বিমানঘাঁটি স্থাপনে সফল হয় তবে তা ইসরাইলের স্বাধীন কর্মকাণ্ডের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। সিরিয়ার আকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। একে নিজেদের জন্য হুমকি বলেও মনে করে ইসরাইল। কেননা তা ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। তাই দামেশক-আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার সম্পর্ক যা মধ্য সিরিয়ায় উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশিষ্ট বিমানঘাঁটি স্থাপনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে তেল আবিব উদ্বিগ্ন।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে থাকা সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি টি-৪ তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রসঙ্গে মার্চের শেষভাগে ইসরাইল উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, সিরিয়ার আকাশ তুরস্কের হাতে ছেড়ে দিবে না ইসরাইল। বিমান নিয়ে উড়ে বেড়ানোর স্বাধীনতা পেতে আপোষেও যেতে দেওয়া হবে না। বিমান অভিযানের স্বাধীনতা নিয়ে কোনো ছাড় হবে না।
অবৈধ রাষ্ট্রটির সংসদ নেসেটের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা কমিটির সদস্য ও ধর্মীয় জায়োনিজম পার্টির নেতা ওহাদ তাল এই প্রসঙ্গে বলেন, ইসরাইলকে অবশ্যই সিরিয়ায় তুরস্কের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্থান থামাতে হবে। গ্রীস ও সাইপ্রাসের সাথে শক্তিশালী জোট গড়ে তুলতে হবে। আঙ্কারার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সমর্থন আদায় করে নিতে হবে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে তিনি তুরস্ককে ইসরাইলের শত্রু রাষ্ট্র বলে আখ্যায়িত করেন। নেতানিয়াহু সরকারকে অবিলম্বে ইসরাইলে থাকা তুর্কি দূতাবাস বন্ধের আহবান জানান।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, মঙ্গলবার ১ মার্চ বিমানঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে তুরস্কের সেনারা। আরো প্রবেশ করেছে সামরিক যুদ্ধযান ট্যাংক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেশটির জনগণকে তুর্কি সেনাদের প্রবেশের সময় উৎফুল্ল ধ্বনিতে অভ্যর্থনা জানাতে দেখা যায়।
একই দিনে গ্রীসে ইসরাইলের সামরিক মহড়া শুরুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যেখানে গ্রীস, সাইপ্রাস, আমেরিকা, কাতার ও আরব আমিরাত সহ আরো কিছু দেশ মহড়ায় অংশ নেয়। আমেরিকাও ঘোষণা দেয় মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও হুথিদের হুমকি মোকাবিলায় সামরিক উপস্থিতি কয়েকগুণ বাড়ানোর।
ইসরাইলের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সিরিয়ায় আঙ্কারার উদ্দেশ্য হলো স্থিতিশীলতা রক্ষা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা। একে অগ্রাধিকার দিয়ে ও দেশটির সরকারের দাবী-দাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টিকে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ দিয়ে সিরিয়ার সেনাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিও ঘাঁটি স্থাপন পরিকল্পনার অংশ। যেনো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি সিরিয়ার অখণ্ডতা রক্ষা করা যায়। পুরো ভূখণ্ডের উপর সিরিয়ার নতুন সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পায় ও কর্তৃত্বের সম্প্রসারণ ঘটে।
এছাড়া তুরস্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, তুরস্ক ও সিরিয়ার মাঝে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের মরুভূমিতে ২টি তুর্কি বিমানঘাঁটি স্থাপন ও দেশটির সেনাবাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে তোলা এই প্রতিরক্ষা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, চুক্তিটি ইতিমধ্যে সম্পাদিত হয়েছে। আহমদ শর’আর সরকার ঐতিহাসিকভাবে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল পালমিরা সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য তুরস্ককে বরাদ্দ দিয়েছে। তুরস্ক এতে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমেত বিমানঘাঁটি গড়ে তুলবে। যা জার্মানির রামস্টাইন ঘাঁটির ন্যায় বৃহৎ ও সক্ষমতা সম্পন্ন হবে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আশ-শারকুল আওসাতের খবরে বলা হয়, তুরস্ক জাতিসংঘ, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ সকল আন্তর্জাতিক শক্তিকে সিরিয়ায় নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমানঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা আগেই জানিয়ে রেখেছিলো। তারা জানিয়েছিলো, এসব ঘাঁটি তুর্কি সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হবে। তারা যেনো একে সেভাবেই দেখে। তাই একে লক্ষ্যবস্তু বানানোর যেকোনো পদক্ষেপকে সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া বলে বিবেচনা করবে তুরস্ক। জবাবে তুরস্কও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
সূত্র: আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই, আশ-শারকুল আওসাত