Image description

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপি, আমলাসহ দেড় শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগের মামলায় দ্রুতই তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শেষে এসব মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করবে। আদালত তা গ্রহণ করলেই এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিচারের মুখোমুখি হবেন বলে জানা গেছে। মামলার নথিপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত বছরের ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করে এরই মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এখন আদালত তা গ্রহণ করলেই দুদকের মামলায় শুরুতে বিচারের মুখোমুখি হবেন শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যরা। এই পরিবারের সঙ্গে আরো অন্তত ৫২ জন মন্ত্রী-এমপি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য, পুলিশ সদস্য, আমলা, ব্যাংকারসহ শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। দুদক সূত্র কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত ১৯ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং ১২ জন এমপি এবং তাঁদের স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে। দুদকের তদন্তে প্রায় সবার বিরুদ্ধে বিপুল জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তা বিদেশে পাচারের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে তাঁরা প্রত্যেকে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ (জয়), মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক প্রমুখ। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ এই তালিকায় আছেন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিশনের তদন্তকারী কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনানুগ সময়ের মধ্যেই সব কটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে তাঁরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছেন। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ। দ্রুতই বিচারের লক্ষ্যে সেসব মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘুষ-দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে যেসব মামলা করা হয়েছে, তদন্তে যেসব মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে সেসব মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। এরপর আদালত তা গ্রহণ করলে আসামি পলাতক থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেল কি না, পরবর্তী সময়ে এসংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে পুলিশ। এরপর আদালত চার্জশিট গ্রহণ করবেন। আর চার্জশিট গ্রহণের মাধ্যমেই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রথমে বিচারের মুখোমুখি হবে শেখ হাসিনা পরিবার 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় গত ১০ মার্চ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ (জয়), মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে। এর আগে গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করা হয়। ২০ মার্চ পুতুলের বিরুদ্ধে ৩৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা সূচনা ফাউন্ডেশনের অনুকূলে লোপাট এবং প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভের অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়। এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলায়ও দ্রুত আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। এ ছাড়া গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা, বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প, বেপজাসহ আটটি প্রকল্প থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকাসহ মোট প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচারের অভিযোগ, পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান শেষে একাধিক মামলা এবং সেসব মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

পাইপলাইনে ৫২ মন্ত্রী-এমপি ও তাঁদের পরিবার 

গত ৫ মার্চ সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং তাঁর স্ত্রী তারাবো পৌরসভার সাবেক মেয়র হাসিনা গাজীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৬৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৮৫০ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির নামে মোট এক হাজার ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে গত ১১ মার্চ সাবেক এই অর্থমন্ত্রী, সাবেক এমপি নিজাম হাজারীসহ ১২টি এজেন্সির মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক ১২টি মামলা করা হয়েছে। ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৯৭ কোটি ৬৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৮৮ টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গত ১৯ মার্চ মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি মো. আবদুস সোবহান মিয়া ওরফে গোলাপের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রায় ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শ ম রেজাউল করিম এবং তাঁর স্ত্রী ফিরোজা পারভীনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। গত ২৪ মার্চ সাবেক চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী জিনাত পারভীনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। গত ২০ মার্চ সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু ও তাঁর মেয়ে সুমাইয়া হোসেন এবং শ্যালিকা সৈয়দা হক মেরীর বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। গত ১৮ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি মৃণাল কান্তি দাস এবং তাঁর স্ত্রী নিলীমা দাসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ যশোর-৬ আসনের সাবেক এমপি মো. শাহীন চাকলাদার এবং তাঁর স্ত্রী ফারহানা জাহান মালার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তাঁর স্ত্রী আফরোজা হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। গত ১২ মার্চ সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী মো. ওমর ফারুক চৌধুরীসহ চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করা হয়েছে। গত ৯ মার্চ ছয় কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৭৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১২ কোটি ৬৯ লাখ ৫৭ হাজার ৫০৫ টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী মো. এনামুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং ৭০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাক মিয়া ও তাঁর স্ত্রী মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

গত ৬ মার্চ সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তাঁর স্ত্রী আইরিন মালবিকা মুনশির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। গত ৪ মার্চ প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত ৩ মার্চ সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি তানভীর ইমাম, তাঁর স্ত্রী মাহিন ইমাম এবং মেয়ে মানিজে ইসমত ইমামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং বরিশাল-২ আসনের সাবেক এমপি মো. শাহে আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি যশোর-৪ আসনের সাবেক এমপি রনজিত কুমার রায়, তাঁর স্ত্রী নিয়তি রানী রায় এবং দুই ছেলে রাজীব কুমার রায় ও সজীব রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করা হয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ২৯৬ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও তাঁর ছেলে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী শাহেদ আহমেদ মজুমদারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

সাড়ে আট কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৩৪ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ও ছেলে মো. রকিবুজ্জামান আহমেদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুদক। ২৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৮৬ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গত ২ ফেব্রুয়ারি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও ছেলে মো. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুদক।

চার কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গত ২৯ জানুয়ারি সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল ওয়াদুদসহ আটজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক। দুটি মামলায় চার কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই দিন বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং তাঁর স্ত্রী মাধবী দেবনাথের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

গত ১৮ জানুয়ারি ভোলা-৩ আসনের সাবেক এমপি নূরুন্নবী চৌধুরীর (শাওন) বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। সাড়ে চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৬ জানুয়ারি সাবেক ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এবং তাঁর স্ত্রী আফরোজা হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গত বছরের ৯ অক্টোবর পৃথক চারটি মামলা করা হয়েছে। ১২১ কোটি পাঁচ লাখ টাকা বিদেশে পাচার এবং ৬৭ কোটি চার লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৩ মার্চ  আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও তাঁর ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। আট কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এভাবে মোট ৫২ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। দ্রুতই এসব মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে।

বিচারের মুখোমুখি হবেন পুলিশ সদস্য, আমলা, ব্যাংকারসহ আরো শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি 

গত ২৫ মার্চ এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুদক। এ ছাড়া এস আলম এবং তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধেও হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে একটি মামলা করে দুদক। মামলায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করা হয়। মামলাগুলোয় ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এরও আগে গত বছরের ১৪ অক্টোবর বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে আরো একটি মামলা করে দুদক।

গত ১৬ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং মেয়ে নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। এভাবে পুলিশ সদস্য, আমলা, ব্যাংকারসহ আরো শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা প্রায় প্রতিটি মামলার তদন্তের অগ্রগতি যথেষ্ট এগিয়েছে। দ্রুতই এসব মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।