
মিয়ানমারে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পটির শক্তি ছিল ৩৩৪টি পরমাণু বোমার সমান। এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ববিদ জেস ফনিক্স। তিনি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মিয়ানমারের ভূমিকম্প যে পরিমাণ শক্তি নির্গত করেছে, তা প্রায় ৩৩৪টি পরমাণু বোমার সমান।
ভূতত্ত্ববিদরা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী আরও অন্তত দু’মাস মিয়ানমার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকবে। জেস ফনিক্স জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেট ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে মিয়ানমারের অবস্থান। এ দুটি প্লেটের ধীর গতির স্থানান্তরের কারণেই ভয়াবহ ভূমিকম্পটি হয়েছে। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া আরও দুই মাস পর্যন্ত চলতে পারে, ফলে মিয়ানমারকে নতুন ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যেই থাকতে হবে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিয়ানমারে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দেশটিতে ৭.৭ এবং ৬.৪ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর মান্দালয় থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১ হাজারের বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ২ হাজার ৩৭৬ জনকে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
ভূমিকম্পের তীব্রতা শুধু মিয়ানমারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী থাইল্যান্ড, দক্ষিণ-পশ্চিম চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া এবং বাংলাদেশেও। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে থাইল্যান্ডে। দেশটির রাজধানী ব্যাংককে কয়েকটি বহুতল ভবনধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক সরকার ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি প্রদেশ ও অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে নেইপিদো, সাগাইং, মান্দালয়, ম্যাগওয়ে, বাগো ও পূর্ব শান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এসব এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এমন ভয়াবহ দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমারের জান্তা সরকারপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, আমরা সব দেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, মিয়ানমারের জনগণের সহায়তায় এগিয়ে আসুন।
মিয়ানমারের আহ্বানে ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মিয়ানমারের জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দল পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে।
এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে মিয়ানমার এবং আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী ভূমিকম্পের আশঙ্কা করায় দেশটির জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।