
সুইৎজারল্যান্ডে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা নিষেধ। প্রকাশ্যে হিজাব পরিধান করার জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মত এক মহিলাকে জরিমানা করল। ঘটনাটি ঘটেছে সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে। এক মহিলাকে প্রকাশ্যে বোরকা পরার জন্য আটক ও জরিমানা করেছে সুইস পুলিশ।
সুইস পুলিশের মুখপাত্র ওয়াকার জানিয়েছেন, গোপনীয়তা আইনের কারণে তিনি ওই মহিলার বয়স বা তার পোশাক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেবেন না। তবে ওই মহিলা সুইডেনের বাসিন্দা। তিনি কোন পর্যটক নন বলেই জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ওয়াকার আরও জানিয়েছেন, জরিমানার ১০০ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১১০ মার্কিন ডলার) দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ওই মহিলা। ফলে এই মামলাটি এখন প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এ মামলার বিচার হবে।
তবে শারীরিক সমস্যা, ঠান্ডা আবহাওয়া, কার্নিভ্যাল ইভেন্ট, ধর্মীয় উপাসনালয়, সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গনে হিজাব পরা যাবে। দেশটির নতুন আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে মুসলিম মহিলাদের হিজাব ও নিকাবের পাশাপাশি বিক্ষোভকারী বা ক্রীড়াপ্রেমীদের মুখোশ ও বালাক্লাভাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইন ভঙ্গ করলে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির কতৃপক্ষ। যারা নিময় ভঙ্গ করবেন তারা প্রথমবার ১০০ ফ্রাঁ এবং আদালতে আপিল করা হলে ১ হাজার ফ্রাঁ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের গণভোটে জয়ী হয়ে বোরকা নিষিদ্ধ করেন দেশটির কতৃপক্ষ। মূলত তথাকথিত ‘উগ্রতা’ রোধের উদ্দেশ্যে দেশটির ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি এই আইনের সপক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল। পরে এটি জননিরাপত্তা উন্নয়নের একটি উপায় হিসেবে পাস হয় এবং বিক্ষোভ ও খেলাধুলার ইভেন্টে মুখোশ পরার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।