ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ব্যাপক গণ আন্দোলন আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সরকার দুই শহরে বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং রাজধানী প্যারিসে কারফিউর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যেই আজ রাজধানীতে প্রধান শিক্ষার্থী সংগঠন ইউনেফ সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এখানে গতকাল গুলিতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দেশটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেই ও লিওঁতে শনি ও রবিবার ছুটির দিনেও সব ধরনের সভাসমাবেশ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ছাড়া প্যারিসে পুনরায় বিশৃঙ্খলা ও লুটপাটের আশঙ্কায় আজ বিশ্বখ্যাত ল্যুভ, ওর্সে ও পিকাসো জাদুঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনাগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের মূল কেন্দ্রবিন্দু প্লাস দ্য লা রিপুবলিক এবং লে আল শপিং এলাকায় আগামী সোমবার পর্যন্ত রাত্রিকালীন কারফিউ বাড়ানো হয়েছে। রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা কারফিউ বলবৎ থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ ও প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লোকর্নুর নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অশান্তি এড়াতে উপকূলীয় শহর মার্সেইতে আজ গণপরিবহন বন্ধ রাখা হবে। কারণ গত সপ্তাহের তাণ্ডবে এ শহরে ৫০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রোউন অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস, দক্ষিণ উপকূলের তুলোঁ, উত্তর-পশ্চিমের রুয়াঁ শহরের কেন্দ্রস্থল এবং পূর্বাঞ্চলের গ্রেনোবল শহরেও অনুরূপ প্রশাসনিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গতকাল দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘সাধারণভাবে সুপারিশ হলো, কোনো বিক্ষোভ হওয়া উচিত নয়।
শ্রমিক সংগঠন হিসেবে যারা বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে চায়, তাদের জন্য কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব বিক্ষোভ শ্রমিক সংগঠনের আয়োজনে হবে না, সম্ভব হলে সেগুলো নিষিদ্ধ করা হবে।’ ম্যাক্রোঁ অভিযোগ করে বলেন, বামপন্থি কট্টর গোষ্ঠীগুলো প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ‘রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ড’ চালাচ্ছে। সরকার দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চায় বলেও জানান তিনি। ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বীকৃত সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তন করা হতে পারে। লিওঁসহ কয়েকটি শহরে শনিবারের বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং স্কুলের অবনতিশীল পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত সপ্তাহে ফ্রান্সজুড়ে বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে দাঙ্গা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি আড়ালে চলে যায়। ওই সহিংসতায় ফ্রান্সের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেনি দেশটির সরকার।
গুলিতে একজন নিহত ও আহত ৪ : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে গতকাল গুলিতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ বলছে, শুক্রবার এক ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থলে গুলি চালান। পরে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছের আরেক শহর কোইনিয়ার্স থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার ডাকা বড় বিক্ষোভের আগে এই গুলির ঘটনা ঘটল। তবে ওই বিক্ষোভের সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র আছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ইয়োলো ভেস্ট আন্দোলনকারী ও ছাত্র সংগঠনগুলো এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
জার্মানির ২১ শহরে জেন-জিদের বিক্ষোভের ডাক : জার্মানির ২১ শহরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন তরুণরা। ৩১ অক্টোবর এসব কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। শিক্ষা খাতে ব্যয়সংকোচন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সামাজিক বৈষম্য ও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরুদ্ধে তাঁরা বিক্ষোভ করবেন। ‘জেন জেড রেগেল্ট’ নামের তরুণদের একটি সংগঠন এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এতে হাজারো মানুষ অংশ নেবে। এদিকে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঘিরে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পুলিশের আশঙ্কা, উগ্রপন্থি গোষ্ঠী বিক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। অন্যদিকে আয়োজকরা জানিয়েছেন, তাঁরা মানুষ বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতার বিরোধী।