সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদি। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নিশ্চয়তা দেন।
গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো সৌদি আরব সফরে যান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। রিয়াদে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।
ইরাকি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই বাগদাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনা। গত মাসে সৌদির প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালানো হয়। পরে হামলাটি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
হামলার পর সৌদি আরবকে সাময়িকভাবে তেল রপ্তানি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। দেশটির জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। তবে হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া পাইপলাইনটির কার্যক্রম ইতিমধ্যে আবার শুরু হয়েছে।
এ ঘটনার পর সৌদি আরব ও ইরাকের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। রিয়াদ সফরে গিয়ে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ এবং প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরাকের এই অবস্থানের মাধ্যমে দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সুযোগ বন্ধ রাখার বিষয়ে বাগদাদের অঙ্গীকার আবারো স্পষ্ট হলো।
সূত্র: আল জাজিরা