Image description

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ শুরু করেছেন তার দলের হাজারো সমর্থক। সোমবার (৪ অক্টোবর) পিটিআই জানায়, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করার দাবিতে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

রয়টর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৩ অক্টোবর) দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ থেকে এই লং মার্চ শুরু হয়। পিটিআই-শাসিত প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মিছিলটি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।

তিনি দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, কারাগারে থাকা তাদের নেতার মুক্তির দাবিতে সবাইকে রাজপথে নামতে হবে।

 
 

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও দেশটির ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ইমরান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই বিরোধ আরও গভীর হয়। ইমরান এ ঘটনার জন্য সামরিক বাহিনীকে দায়ী করলেও সেনাবাহিনী তা অস্বীকার করে।

 
 

২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সমর্থকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। সামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয় এবং পরে সামরিক আদালতে অনেক পিটিআই সমর্থকের বিচার হয়।

 

৭৪ বছর বয়সী ইমরান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। একাধিক মামলায় তিনি দণ্ডিত হলেও অধিকাংশ সাজা পরে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, কয়েকটি মামলার আপিল এখনো চলমান। ইমরান নিজেকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে দাবি করে আসছেন। তবে পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেশটির বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার কথা বলেছে।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে এই লং মার্চের ঘোষণা প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া হয়েছিল। পরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব এলে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে সপ্তাহান্তে সেই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে লং মার্চ শুরু হলো।

এদিকে মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানী ও আশপাশে হাজারো পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকা ঘিরে বসানো হয়েছে কনটেইনার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, সরকার মিছিলকারীদের ইসলামাবাদে ঢুকতে দেবে না। তিনি বলেন, রাজধানীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

পিটিআইয়ের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় মূল বিরোধের একটি বিষয় ছিল খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি। সরকার বলছে, ওই নীতিতে সহযোগিতা না করায় আলোচনা ভেঙে যায়। তবে পিটিআই এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: রয়টার্স