Image description

ইয়েমেনের নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বজায় রাখছে রাশিয়া। দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে আড়ালে ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখছে।

 

এই কৌশলের ফলে ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি না করেই হুথিদের ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তৃত করতে পারছে মস্কো। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব থেকে কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে ক্রেমলিনের জন্য।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে যে ইরানের মাধ্যমে হুথিদের সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সুবিধার্থে ইরান সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে হুথিদের স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ডেটা দিয়ে সাহায্য করেছে মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধের বাইরে গিয়ে পশ্চিমাদের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাশিয়া এই পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

 

তবে এই খবরের বিপরীতে সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে প্রকাশ্যে হুথিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। গত ৮ সেপ্টেম্বর মস্কো সফররত সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে বৈঠক শেষে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সৌদি আরবে হুথিদের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলাকে ‘অনভিপ্রেত’ ও ‘গঠনমূলক আলোচনা বিরোধী’ বলে আখ্যা দেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপ হয়। এতে উভয় নেতাই বাব আল-মানদেব ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং জাতিসংঘের অধীনে ইয়েমেন সংকট সমাধানের বিষয়ে জোর দেন। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল-আলিমি বাওয়াজিরের সঙ্গে বৈঠক করেন ল্যাভরভ।

 

 

মস্কোর এক কূটনৈতিক জানিয়েছে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করা মস্কোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই প্রকাশ্য সমর্থন থেকে বিরত থেকে ভারসাম্য বজায় রাখছে রুশ কূটনীতি।

আরেকজন রুশ কূটনীতিক জানান, হুথিরা মধ্যস্থতার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে এবং দর কষাকষির সুযোগ বাড়াতে হামলা জোরালো করে থাকতে পারে। যদিও রাশিয়ার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে।

ইয়েমেনে মস্কোর বর্তমান অবস্থানের পেছনে যেমন কৌশলগত হিসাব-নিকাশ রয়েছে, তেমনি রয়েছে দীর্ঘ কূটনৈতিক ইতিহাস। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকেই ইয়েমেনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক গভীর। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর হুথিরা রাশিয়াকে সমর্থন দিলে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। তবে ২০২৬ সালে এসে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় রাশিয়া আবারও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের দিকে ঝুঁকছে।

সূত্র: আল-মনিটর