আমিনুল ইসলাম
আল জাজিরার এই মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজ বলেছে, আরাগচি নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে ইরানের ইসনা নিউজ এজেন্সি বলছে, ইরান প্রকৃত কূটনীতির জন্য উন্মুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো নতুন হামলার মোকাবিলায়ও প্রস্তুত। এমনকি এর জন্য প্রলয়ংকরী বা ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হলেও।
এদিকে মারিও নওফেলের শোতে এসে ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক ত্রিটা পার্সি বলেছেন, সম্ভবত ট্রাম্প ও ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। ওদের আলোচনায় যেটা উঠে এসেছে; সেটা হচ্ছে- ট্রাম্প হয়তো জব্দ করে রাখা ইরানের অর্থ ফেরত দিতে রাজি হবে এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই সময়ে এসে কেন এই রকম একটা আলোচনা হচ্ছে কিংবা ট্রাম্পই বা কেন চুক্তি করতে চাইছে?
হিসাবটা সোজা। অ্যামেরিকান সামরিক বিশ্লেষক কর্নেল ম্যাক গ্রেগর বলেছেন, মিড টার্ম ইলেকশনে ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানোর জন্য ট্রাম্প এখন চেষ্টা করছে। অর্থাৎ ইরানের সাথে একটা চুক্তিতে এসে নির্বাচনে বিপর্যয় এড়াতে চাইছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, চুক্তি হলেও কি ট্রাম্প কিংবা সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকাকে আদৌ বিশ্বাস করা যায়?
নরওয়েজিয়ান অধ্যাপক গ্লেন ডাইসেন এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি গিয়েছেন মস্কোতে এক কনফারেন্সে অংশ নিতে। দুজনই সেখানে আছেন। উনারা দুইজনই আজকের আলোচনায় বলেছেন, চুক্তি হলেও খুব বেশি প্রভাব হয়তো দেখা যাবে না। কারণ আগের চুক্তিও ট্রাম্প এক দিনের মাথায় ভেঙেছে!
চুক্তি হলে সেটাও হবে এক ধরনের ইরানের বিজয়। তবে এলিট-বুর্জোয়াদের বিশ্বাস করতে নেই। সেটাও যদি আবার হয় এপস্টিন ক্লাস ট্রাম্পের মতো কেউ! আমার ধারণা, ইরান যুদ্ধটা এই মুহূর্তে যে স্থবির অবস্থায় আছে; এটা অনেকটা ভয়ানক ঘূর্ণিঝড় কিংবা হ্যারিকেন আসার ঠিক আগ মুহূর্তের শান্ত অবস্থার মতো। যে কোনো সময় ভয়ংকর আঘাত করতে পারে। আবার ঝড়টা থেমেও যেতে পারে।
আমি মনে করছি, ইরানকে সামরিক ভাবে অ্যামেরিকাকে পরাজিত করেই এই যুদ্ধ থামাতে হবে। ঠিক যেমনটা অ্যামেরিকান অধ্যাপক রবার্ট পেপ আজ বলেছেন, এই যুদ্ধ এমন একটা অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে, হয় জয়, নয়তো পরাজয়। জয় আর পরাজয়ের মাঝখানে কোনো জায়গা আর নেই।
পৃথিবীবাসীকে হয়তো আরেকটি বড় যুদ্ধ অক্টোবরের শেষে কিংবা নভেম্বরের প্রথম দিকে দেখতে হতে পারে। আমি ধারণা করছি, এই প্রলয়ংকরী যুদ্ধে ইরান জয়ী হতে চলেছে। ঠিক যেমনটা হয়েছে গত বছর জুনের ১২ দিনের কিংবা এই বছর মার্চ-এপ্রিলের ৪০ দিনের যুদ্ধে।
(ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া)