Image description

ইরান, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

তবে নেতানিয়াহু বক্তৃতা দিতে মঞ্চে উঠতেই প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান কয়েক ডজন কূটনীতিক।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আর কোনো “নৈতিক কাপুরুষ” যদি এখনো এই কক্ষে থেকে থাকেন, অনুগ্রহ করে আপনিও চলে যান।’

এরপরও তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আমরা জিতব। আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।’

এসময় হলে থাকা নেতানিয়াহুর সমর্থকরা ‘ইসরায়েলি জনগণ বেঁচে আছে’ বলে স্লোগান দেন। বক্তব্যে গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে- এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা নেতানিয়াহু তার সমালোচনাকারী দেশ ও নেতাদের তীব্র আক্রমণ করেন।

তিনি বলেন, ‘তারা ইসরায়েলকে, ছোট্ট ইসরায়েলকে, উপনিবেশবাদের দায়ে অভিযুক্ত করছে—কী বিচিত্র উপনিবেশবাদ! আর কারা আমাদের অভিযুক্ত করছে? ব্রিটেন ও ফ্রান্স। এই উপনিবেশবাদ শব্দটাই তো তারা তৈরি করেছেন।’

এরপর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যা দেন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তার বিরুদ্ধে।

নিউইয়র্ক নগরের বামপন্থী মেয়র জোহরান মামদানিরও সমালোচনা করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। মামদানিকে উদ্দেশ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনি এই নগরের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অনেক ইহুদি নিউইয়র্ককে আর নিজেদের জন্য নিরাপদ মনে করেন না।’

এনডিটিভি জানিয়েছে, তিনি বলেন, ‘আমাকে এখানে আসতে না দিতে চেয়েছিলেন। আপনি চেষ্টা করেছেন আমাকে চুপ করাতে। আমাকে চুপ আপনি করাতে পারবেন না। সত্যকে কখনো চুপ করানো যায় না।’

তবে ‘সাহসী নেতৃত্বের’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এ সময় তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার কথা উল্লেখ করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘শুধু নিজেদের রক্ষার জন্য নয়, সভ্যতা রক্ষার জন্যও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এমন যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে।’