ঢাকার কোনো একটি চাকরির পরীক্ষার কেন্দ্রে সকাল থেকেই তরুণ-তরুণীদের ভিড়। কারও হাতে স্বচ্ছ ফাইল, কারও হাতে শেষ মুহূর্তের নোট, কেউ মোবাইলে প্রবেশপত্র দেখছেন, কেউ আবার নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন। একই বয়সী শত শত মুখ। সবার চোখে প্রায় একই স্বপ্ন—একটি চাকরি। একটি স্থায়ী আয়। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ। পরিবারের কাছে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ।
কিন্তু সেই পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে একটি বড় প্রশ্নও করা দরকার—এই তরুণদের ভবিষ্যৎ কি শুধু একটি চাকরির পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে?
রাষ্ট্রের কাছে এর চেয়েও বড় প্রশ্ন আছে। প্রতি বছর যে বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, তাদের জন্য রাষ্ট্র কী ধরনের ভবিষ্যৎ তৈরি করছে? তাদের শিক্ষা কি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত? তাদের দক্ষতা কি বাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ কতটা সহজ? নতুন শিল্প, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন অর্থনীতিতে তাদের জায়গা কোথায়?
চাকরি খোঁজা তরুণের সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই বোঝা যাচ্ছে—বেকারত্ব কেবল ব্যক্তির সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রশ্ন।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর্মক্ষম বয়সে থাকলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হয়ে যায় না। সেই তরুণদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে হয়। তা না হলে জনমিতিক সম্ভাবনাই একসময় অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক হতাশায় পরিণত হতে পারে।
শিক্ষার সঙ্গে চাকরির দূরত্ব
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতা হলো—শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী বছরের পর বছর পড়াশোনা শেষ করে যখন চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন, তখন অনেক সময় তিনি আবিষ্কার করেন, তাঁর ডিগ্রি আছে, কিন্তু চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই।
শিক্ষাব্যবস্থা তাকে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে শিখিয়েছে; কিন্তু সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, দলগত কাজ, প্রযুক্তির ব্যবহার, সৃজনশীল চিন্তা কিংবা বাস্তব কর্মপরিবেশে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা হয়তো যথেষ্ট শেখায়নি।
ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর শুরু হয় আরেকটি শিক্ষা—চাকরির প্রস্তুতি।
রাষ্ট্র যদি শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তাহলে সে চাকরিপ্রার্থী তৈরি করবে। কিন্তু রাষ্ট্র যদি মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা পরিবেশ, শ্রমিকের অধিকার, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলে, তাহলে সে ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।
সরকারি চাকরি, ব্যাংক, শিক্ষকতা কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য তরুণেরা বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন। এতে কোনো পেশার প্রতি আগ্রহ থাকুক বা না থাকুক, চাকরির নিশ্চয়তার জন্য সবাই প্রায় একই পথে হাঁটতে বাধ্য হন।
এখানে ব্যক্তির দোষ যতটা, ব্যবস্থার দায় তার চেয়ে কম নয়।
শিক্ষাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে একজন শিক্ষার্থী শুধু চাকরি খোঁজার জন্য প্রস্তুত না হন; বরং তিনি চাকরি তৈরি করার সক্ষমতাও অর্জন করেন।
সরকারি চাকরি কি একমাত্র নিরাপদ ভবিষ্যৎ?
বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটি অংশ সরকারি চাকরির দিকে ছুটছেন। এর পেছনে শুধু নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষা নয়; রয়েছে সামাজিক মর্যাদা, চাকরির স্থায়িত্ব, অবসরকালীন সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তার আকাঙ্ক্ষা।
এটি তরুণদের মানসিকতার সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
যে অর্থনীতিতে চাকরির বাজার অনিশ্চিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও তুলনামূলক কম নিরাপত্তা থাকে, দক্ষতার মূল্যায়ন সব সময় স্বচ্ছ হয় না এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পথে অর্থায়ন ও প্রশাসনিক জটিলতা থাকে, সেখানে সরকারি চাকরি নিরাপদ মনে হওয়াই স্বাভাবিক।
অতএব তরুণদের শুধু বলা—‘সরকারি চাকরির পেছনে ছুটো না’—কাজের কথা নয়।
বরং এমন একটি শ্রমবাজার তৈরি করতে হবে, যেখানে সরকারি চাকরি আর বেসরকারি চাকরি, উদ্যোক্তা হওয়া আর ফ্রিল্যান্সিং—সব পথেই সম্মানজনক ও টেকসই জীবিকার সুযোগ থাকবে।
কর্মসংস্থান শুধু চাকরি নয়
কর্মসংস্থানের আলোচনায় আমরা প্রায়ই শুধু ‘কতটি চাকরি তৈরি হয়েছে’—এই প্রশ্ন করি।
কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কী ধরনের চাকরি তৈরি হয়েছে?
একজন তরুণ যদি এমন কাজে যুক্ত হন যেখানে আয় অনিশ্চিত, সামাজিক সুরক্ষা নেই, দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ নেই এবং ভবিষ্যৎ অগ্রগতির পথ নেই, তাহলে সেটিকে কেবল কর্মসংস্থান হিসেবে দেখলে বাস্তবতা আড়াল করা হয়।
মানসম্মত কর্মসংস্থান বলতে বোঝায় ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ, শ্রমিকের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ অগ্রগতির সম্ভাবনা।
বাংলাদেশের অর্থনীতি যদি শুধু কম মজুরির শ্রমনির্ভর শিল্পের ওপর নির্ভর করে থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের চাপ মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
আমাদের প্রয়োজন উচ্চ উৎপাদনশীল শিল্প, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি-প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব শিল্প, লজিস্টিকস, সফটওয়্যার, ডিজিটাল সেবা এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিস্তার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ভয় না সুযোগ?
তরুণদের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এআই অনেক প্রচলিত কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের কাজও তৈরি করছে। প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশের তরুণেরা এই পরিবর্তনের জন্য কতটা প্রস্তুত?
যদি একটি তরুণ প্রজন্ম শুধু পুরোনো ধরনের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেয়, অথচ শ্রমবাজার দ্রুত বদলে যায়, তাহলে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা কর্মসংস্থানের সংকটে পড়তে পারে।
তাই ডিজিটাল দক্ষতা এখন আর বিশেষ দক্ষতা নয়; এটি মৌলিক কর্মদক্ষতার অংশ।
কোডিং জানা প্রত্যেকের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু ডেটা বোঝা, ডিজিটাল টুল ব্যবহার, এআই-সহায়ক কাজ, অনলাইন যোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাই শিল্প ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করতে হবে।
উদ্যোক্তা হতে চাইলে পথ এত কঠিন কেন?
সব তরুণ চাকরি করবেন—এমন অর্থনীতি কোথাও নেই।
একটি শক্তিশালী অর্থনীতিতে চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং স্বনিযুক্ত মানুষের বড় ভূমিকা থাকে।
কিন্তু বাংলাদেশে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এখনও বহু বাধা রয়েছে। অর্থায়নের সমস্যা, ব্যবসা শুরু করার জটিলতা, বাজারে প্রবেশের অসুবিধা, দক্ষতার ঘাটতি, নীতির অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা তরুণ উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করতে পারে।
বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ব্যবসায়িক পরামর্শ, ইনকিউবেশন, বাজারসংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সমন্বিত ব্যবস্থা দরকার।
শুধু ‘উদ্যোক্তা হও’ বললে উদ্যোক্তা তৈরি হয় না। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হয়।
জেলা শহর ও গ্রামের তরুণেরা কোথায়?
কর্মসংস্থানের সুযোগের বড় একটি সমস্যা ভৌগোলিক বৈষম্য।
ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরে কাজের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণেরা রাজধানীমুখী হন। এর ফলে শহরে জনসংখ্যার চাপ বাড়ে, আবাসন ব্যয় বাড়ে, যানজট বাড়ে এবং একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি তরুণ শ্রমশক্তির একটি অংশ হারায়।
যদি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্প, প্রযুক্তি, কৃষিপ্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়, তাহলে কর্মসংস্থানের চাপ শুধু রাজধানীর ওপর থাকবে না।
ডিজিটাল অবকাঠামো আরও বিস্তৃত হলে দূরবর্তী অঞ্চল থেকেও অনলাইন কাজ ও সেবা রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
একজন তরুণকে কাজের জন্য ঢাকায় আসতেই হবে—এ ধারণা বদলানো দরকার।
নারীর কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন ভাবনা দরকার
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নারীর শ্রমশক্তি অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও নারীর কর্মসংস্থানের পথে এখনও বহু সামাজিক ও কাঠামোগত বাধা রয়েছে।
নিরাপদ যাতায়াত, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি প্রতিরোধ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, শিশুযত্ন, নমনীয় কর্মঘণ্টা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ—এসব নিশ্চিত না করলে শিক্ষিত নারীর একটি বড় অংশ শ্রমবাজারের বাইরে থেকে যেতে পারেন।
একজন নারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো ফল নিয়ে বের হলেন, কিন্তু বিয়ের পর কর্মজীবন চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ পেলেন না—এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এটি অর্থনীতিরও ক্ষতি।
মানবসম্পদের অর্ধেককে পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে না পারলে কোনো দেশ তার সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারে না।
রাষ্ট্রের কাজ চাকরি দেওয়া নয়, চাকরি তৈরির পরিবেশ তৈরি করা
এখানে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা প্রয়োজন।
রাষ্ট্র প্রত্যেক তরুণকে সরকারি চাকরি দিতে পারবে না। এমন চেষ্টা অর্থনৈতিকভাবেও টেকসই নয়।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন শিল্প তৈরি হবে, ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে এবং উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পাবেন।
একই সঙ্গে শ্রমবাজারের তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা জরুরি। কোন খাতে কত কর্মী প্রয়োজন, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে, কোন অঞ্চলে কী ধরনের শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে—এসব তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও প্রকাশ করা দরকার।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সরকারের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি বাজারের প্রয়োজন না জানে, শিল্প যদি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত না থাকে এবং সরকার যদি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের প্রবণতা না বোঝে, তাহলে তরুণদের জন্য দক্ষতা তৈরি হবে কীভাবে?
তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে দেখবেন না
আমাদের ভাষাটিও বদলাতে হবে।
‘চাকরিপ্রার্থী’ শব্দটি তরুণদের একটি সীমিত পরিচয়ে আটকে দেয়। তারা শুধু চাকরি খুঁজছে না; তারা একটি জীবন খুঁজছে। স্বাধীনতা খুঁজছে। আত্মমর্যাদা খুঁজছে। পরিবারকে সহায়তা করার সুযোগ খুঁজছে। নিজের প্রতিভা কাজে লাগানোর জায়গা খুঁজছে।
কেউ চাকরি করবে, কেউ ব্যবসা করবে, কেউ গবেষণা করবে, কেউ কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, কেউ সফটওয়্যার তৈরি করবে, কেউ বিদেশে গিয়ে দক্ষতা অর্জন করবে, আবার কেউ দেশে থেকেই বিশ্ববাজারে সেবা দেবে।
রাষ্ট্রের কাজ হলো এই সম্ভাবনার পথগুলো খুলে দেওয়া।
কারণ একটি তরুণের হাতে শুধু একটি চাকরি তুলে দেওয়া মানেই তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা নয়। তাকে এমন দক্ষতা ও সুযোগ দিতে হবে, যাতে একটি চাকরি হারালেও সে নতুন কাজ খুঁজে নিতে পারে, প্রয়োজনে নিজের কাজ তৈরি করতে পারে এবং পরিবর্তিত অর্থনীতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।
আজ যে তরুণ চাকরির পরীক্ষার হলে বসে আছে, তার সামনে হয়তো কয়েক দশকের কর্মজীবন। সেই কর্মজীবন শুধু একটি নিয়োগপত্র দিয়ে শুরু হবে না; শুরু হবে একটি সক্ষম অর্থনীতির সঙ্গে তার সংযোগ দিয়ে।
তাই প্রশ্নটি আমাদের বদলাতে হবে।
‘তরুণদের জন্য কত চাকরি আছে?’—এই প্রশ্নের পাশাপাশি জিজ্ঞেস করতে হবে, ‘আমরা কেমন অর্থনীতি তৈরি করছি, যেখানে তরুণেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারবে?’
রাষ্ট্র যদি শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তাহলে সে চাকরিপ্রার্থী তৈরি করবে। কিন্তু রাষ্ট্র যদি মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা পরিবেশ, শ্রমিকের অধিকার, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলে, তাহলে সে ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।
বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগটি তরুণ জনগোষ্ঠী। আবার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে ঘিরেই।
তাদের স্বপ্ন যদি সুযোগ পায়, তারা অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে। আর তাদের স্বপ্ন যদি দীর্ঘদিন চাকরির পরীক্ষার হল, কোচিং সেন্টার, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে থাকে, তাহলে সেই সম্ভাবনা একসময় হতাশায় রূপ নিতে পারে।
তাই যে তরুণ আজ চাকরি খুঁজছে, তার হাতে শুধু একটি চাকরি নয়—একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়াই রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব।
কারণ বেকার তরুণ শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। তার পেছনে একটি পরিবার আছে, একটি স্বপ্ন আছে, একটি বিনিয়োগ আছে এবং সবচেয়ে বড় কথা—একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আছে।
সেই ভবিষ্যৎকে আমরা কীভাবে ব্যবহার করব, সেটিই আগামী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।