ইসরায়েলের নীতির কারণে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তাঁর ভাষ্য, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এখন শুধু দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং ফিলিস্তিনিদের ‘জীবন ও অস্তিত্বের’ জন্যও হুমকি তৈরি করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আব্বাসের পূর্বে রেকর্ড করা বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা না দেওয়ায় তিনি সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের বক্তব্য ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়।
রামাল্লা থেকে দেওয়া বক্তব্যে আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনিরা তাদের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়গুলোর’ একটি পার করছে। হত্যা, ধ্বংস, অনাহার, বাস্তুচ্যুত করার চেষ্টা এবং গাজায় ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধের’ কারণে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্বাসের অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের জীবনকে মুছে দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, আবাসিক এলাকা, শহর, শরণার্থীশিবির, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, মসজিদ ও গির্জা ধ্বংস করা হয়েছে। এতে জীবনযাপনের ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট। সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে তিনি ‘দুরভিসন্ধিমূলক ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পাশাপাশি বসতি স্থাপনের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে প্রতিদিনই নতুন বাস্তবতা তৈরি করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান আব্বাস। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে এ সমাধান কার্যকর করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
আব্বাস বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষার শুরুই করতে হবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ধারিত ভূখণ্ড সংরক্ষণ এবং সেখানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়ার কারণে ২০২৬ সালের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের পূর্ব-রেকর্ড করা বক্তব্য সম্প্রচারের অনুমতি দিয়েছিল সাধারণ পরিষদ। এ বিষয়ে ১৭ সেপ্টেম্বরের ভোটে ১৫২টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে এবং তিনটি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়।