ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত একটি কারাগারে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এতে সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হুথি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল সোমবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের আল-জাওয়াফ প্রদেশের কারাগারে হামলা চালায় সৌদি আরব। আর এ হামলার পরই সৌদিতে পাল্টা হামলা চালায় হুথিরা।
বিদ্রোহীদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণলায় ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, আল-জাওয়াফের আল-হাজম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের হামলায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও জানিয়েছে তারা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, কারাগারটিতে এখনো ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে’ উদ্ধার অভিযান চলছে। হামলার পর কারগারটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে অনেক নিখোঁজ বন্দি ও কারা কর্মকর্তাদের কাছে এখনো পৌঁছানো যায়নি।
সৌদি আরব এখন পর্যন্ত কারাগারে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
‘হুথিদের এমন পরিণতি ভোগ করতে হবে যা তারা হ্যান্ডেল করতে পারবে না’
এদিকে হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন জায়গায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রয়াত্ত্ব তেল কোম্পানি আরামকোর কয়েকটি অবকাঠামোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এ হামলার জেরে হুথিদের হুমকি দিয়েছেন সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। মঙ্গলবার এক সতর্কবার্তায় তিনি বলেছেন, হুথিদের এমন পরিণতি ভোগ করতে হবে যা তারা হ্যান্ডেল করতে পারবে না।
তিনি বলেন, নিজেদের ও ইয়েমেনের স্বার্থ রক্ষায় সৌদির কাছে যে সামরিক শক্তি আছে তার সবই ব্যবহার করা হবে।
প্রিন্স ফারহান বলেন, “ইয়েমেন ও এ অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় যা করার তার করতে আমরা কোনো দ্বিধা করব না। আমাদের কাছে যে সামরিক শক্তি আছে তা দিয়ে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “হুথিরা যে পথ অনুসরণ করছে এর পরিণতি যা হবে তা তারা হ্যান্ডেল করতে পারবে না। হুথিরা তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ইয়েমেন ও সৌদির ওপর চাপাতে চাচ্ছে।”
সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, হুথিরা যখনই কোনো সমস্যায় পড়ে তখন তারা সহিংসতাকে বেঁছে নেয়। তিনি বলেন, “তারা রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং দায়িত্ববান হওয়ার বদলে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ওপর আরও দুর্ভোগ চাপিয়ে দিচ্ছে।”
তবে হুমকির পাশাপাশি তিনি বলেছেন, হুথিদের সামনে এখনো কূটনৈতিক পথ খোলা আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখনো চাইলে হুথিরা রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুথিদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তারা নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থকে ইয়েমন ও এর জনগণের স্বার্থের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা