পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির গ্রামে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই স্কুলের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া, শক্ত করা হয়েছে ফটক, বাইরে দাঁড় করানো হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স। মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বাড়তে থাকায় সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়েও নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ফিলিস্তিনি বাবা -মায়েরা।
ভোরের আলো ফোটার আগেই আল- মুঘাইয়ির ছেলেদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক বাসাম আল-আসাফ। স্কুলের চারপাশে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছেন তিনি। তার কথায়, ‘‘আমরা ভয় পাচ্ছি। ছাত্ররা ভয় পাচ্ছে, তাদের বাবা-মায়েরাও ভীষণ ভয় পাচ্ছেন।’’ আতঙ্কের কারণও অবশ্য কম নয়। চলতি বছর আল-মুঘাইয়িরে নিহত ছয় জনের মধ্যে তিন জনই এই স্কুলের ছাত্র ছিল। গত এপ্রিলে স্কুলের ফটকের বাইরে বসতি স্থাপনকারীর গুলিতে প্রাণ হারায় ১৪ বছরের আওস আল- নাসান। ইংরেজির শিক্ষক ওয়াহিদ আবু নাঈম জানান, গুলির শব্দ শুনে দুই ছাত্র তাকে সতর্ক করেছিল। ছাত্রদের নিরাপদে স্কুলের ভিতরে সরিয়ে নেওয়ার সময়ই গুলি চলে। পরে স্কুলের দেওয়ালেও গুলি লাগে। ছাত্রেরা শ্রেণিকক্ষের দেওয়ালের আড়ালে লুকিয়ে কিংবা মেঝেতে শুয়ে প্রাণ বাঁচায়।
এরপর গ্রীষ্মে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও অনুপ্রবেশের ঘটনায় আরও দুই ছাত্র এবং স্কুল ছেড়ে সদ্য বেরোনো ১৯ বছরের এক তরুণ নিহত হয়। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষে তিনটি বেঞ্চ পড়ে রয়েছে খালি। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও দ্বিধায় পড়েছিলেন বহু অভিভাবক। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন বাবা -মা নিজেরাই স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।স্কুলের পাশেই রাস্তায় রাখা হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্সও।
আল- মুঘাইয়ির রামাল্লার উত্তর-পূর্বে একটি বিচ্ছিন্ন ফিলিস্তিনি গ্রাম। চারপাশে ক্রমশ বাড়ছে ইহুদি বসতি ও বসতি- চৌকি। স্থানীয় অ্যাম্বুল্যান্সকর্মী হাদি আল- নাসানানের দাবি, ২০২৬ সালে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ইজ়রায়েলি বাহিনীর যোগসূত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। তার মতে চলতি বছরে বছর শিশুদের আহত হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। জুনে রাষ্ট্রপুঞ্জের তদন্ত কমিশন জানিয়েছিল যে, শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা বৃহত্তর ভাবে ফিলিস্তিনিদের জমি ছাড়তে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। ইজরায়েল যদিও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জুলাইয়ের শেষে খামারে ভাই-বোনদের সঙ্গে খেলার সময় গুলিবিদ্ধ হয় নয় বছরের সালিম আবু রহমা। তার বাবা সামির প্রশ্ন, ‘‘বসতি স্থাপনকারীরা যখন সন্তানদের দিকে গুলি চালাতে শুরু করে, তখন আমরা বাবা- মায়েরা কী করব?’’