ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি আবারও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ ও সোনা কেনা থেকে বিরত থেকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে ভূমিকা রাখতে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কিরগিজস্তান সফর থেকে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, দেশের এই প্রবৃদ্ধি জনগণের ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের ফল।
তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণকে অনেক অভিনন্দন। ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশকে আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে। এটি ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন।’
মোদি দাবি করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন সত্ত্বেও ভারত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এখন নানা সংকটে ঘেরা। চারদিকে যুদ্ধের খবর, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত। ২০২০ সালের কোভিড মহামারির পরও স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফেরেনি। তবুও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।’
সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত সরকারি উপাত্ত অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতি ৭.৮ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে অর্থনৈতিক গতি কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও প্রবৃদ্ধির হার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।
এই সাফল্যের প্রেক্ষাপটে দেশবাসীর প্রতি স্বদেশী পণ্য ও সেবা ব্যবহারের আহ্বান জানান মোদি।
তিনি বলেন, বিদেশ ভ্রমণের পরিবর্তে দেশের ভেতর পর্যটনকে উৎসাহিত করা উচিত এবং বিদেশে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ আয়োজন এড়িয়ে চলা দরকার।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘পর্যটনের জন্য বিদেশের মাটিতে যাবেন না। বিদেশে গন্তব্যভিত্তিক বিবাহ আয়োজন করা এড়িয়ে চলুন। আমাদের ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ মন্ত্র অনুসরণ করা উচিত। প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনা থেকেও বিরত থাকুন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় পণ্য ও সেবার ব্যবহার বাড়লে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তার ভাষায়, ‘আমরা যত বেশি ভারতীয় পণ্য ও সেবা বেছে নেব, ভারত তত বেশি উন্নতি করবে। আত্মনির্ভরতার পথে এগোতে পারলে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে আগামী প্রজন্মের হাতে একটি উন্নত ভারত তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’
একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে আরও কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান। মোদি বলেন, দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ভারতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসেও বৈশ্বিক সংঘাত, মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খল সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সে সময় তিনি বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ বাড়ানো, জ্বালানি ব্যবহার কমানো, গণপরিবহন ও বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ ও সোনা কেনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।