Image description

নতুন-পুরনো মিলিয়ে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে একদশক ধরে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক এই মানুষ নিজ দেশে ফিরতে চাইলেও তার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা এখনো নেই। শরণার্থী ও উদ্বাস্তুদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক সামি হামদিও বলছিলেন, রাষ্ট্র পরিচয়হীন এই মানুষগুলোকে নিয়ে নানামুখী চক্রান্ত করছে মিয়ানমার। 

তার মতে, রোহিঙ্গারা দেশে ফিরুক, এটা কোনভাবেই মিয়ানমার চায় না। বরং এটা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহলে তৎপরতা চালাচ্ছে জান্তা সরকার।

জাতিগতভাবে নিধনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা-ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়েছে সেই দেশের সরকার। রাখাইনে অস্থিরতার কথা বলে ৯ বছরেও সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি তারা। এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে ঢাকাকে তাগিদ দিচ্ছেন এই বিশ্লেষক।

সামি হামদি বলেছেন, রাখাইনে অস্থিরতা বন্ধ করতে পারেনি মিয়ানমার। এজন্য সেখানে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্যোগ জরুরি। জাতিসংঘকে শান্তিরক্ষী মিশন পাঠিয়ে প্রয়োজনে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। এ কাজে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল না থাকলে ভুগতে হবে বলেও ধারণা তার। 

এ নিয়ে তিনি তার বক্তব্য, একটা রোডম্যাপ লাগবেই। তা না হলে আন্তর্জাতিক সহায়তাও কিন্তু মিলবে না। তুরস্ক যেভাবে সিরিয়ার শরণার্থীদের অর্থনৈতিক কাজে লাগিয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো যেতে পারে।

তৃতীয় কোনো দেশে রোহিঙ্গাদের ফেরৎ পাঠানো হলে সেজন্য বাংলাদেশকে খেসারত দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সামি হামদি বলেছেন, মিয়ানমার কখনোই সীমান্ত বন্ধ করবে না, এ অবস্থায় আরো রোহিঙ্গা আসতে পারে। তারা যদি বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে যায়, সেটি মিয়ানমারের এক প্রকার বিজয় হবে। এই সুযোগে অন্য দেশ থেকেও বাংলাদেশে শরণার্থী আসার ঝুকি থাকে। পাশাপাশি এ নিয়ে বাংলাদেশকে বুলিও করবে মিয়ানমার।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হলে যে অস্থিরতা হবে, তার পরিণতি ঢাকার পাশাপাশি ওয়াশিংটন-বেইজিং-দিল্লিসহ সবপক্ষকে ভোগ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।