Image description

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা-ইনের মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) বেহালা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এর আগে গত মঙ্গলবার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের গাড়িতে চেপে কলকাতা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার পরে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে গিয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন। সূত্রের খবর, শনিবারই বেহালার ডায়মন্ড হারবার রোডের বাড়িতে ফিরেছেন বীরেশ্বর। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কেন তিনি পালিয়ে গিয়েও আবার নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনার পর থেকেই বীরেশ্বরের খোঁজ করছিল পুলিশ। সূত্রের খবর, তার দু’টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ সেই অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছেন, হাতে নগদ অর্থের অভাব হওয়ায় তিনি ধানবাদ থেকে বাড়ি ফিরে এসেছেন। ঝাড়খণ্ডে বীরেশ্বরের কয়েক জন কর্মচারীর বাড়ি রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেখানেই গিয়ে সাহায্য নিয়েছিলেন তিনি। তাকে জেরার পরেই স্পষ্ট এ সব বিষয় স্পষ্ট হবে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেট এলাকার হোটেল ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগে। প্রাণ যায় ন’জনের। তাদের মধ্যে সাত জন বাংলাদেশের নাগরিক। অভিযোগ, মাত্র ১১০০ বর্গফুট জায়গায় পাঁচটি ঘর, প্রত্যেকটির সঙ্গে লাগোয়া স্নানঘর তৈরি করা হয়েছিল। অগ্নিনির্বাপণের কোনও নিয়ম মানা হয়নি। ঘটনার পরেই বীরেশ্বরের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। নিউ মার্কেট এলাকা ছাড়াও দিঘা এবং মন্দারমণি— এই দুই জায়গায় বীরেশ্বরের দু’টি হোটেল রয়েছে বলে জানতে পারে পুলিশ। শুক্রবার সেখানেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে বীরেশ্বরকে পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, বুধবার ভোরে হোটেলের এক কর্মচারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। তার পর থেকে তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল। অবশেষে শনিবার গ্রেফতার করা হয় বীরেশ্বরকে।

শুক্রবার অভিযান চালিয়ে নিউ মার্কেট এলাকায় ১১টি হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে পুরসভা ও দমকলের যৌথ কমিটি। শনিবার আরও ছ’টি বন্ধ করা হয় বলে জানান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার নিউ মার্কেট এলাকার ১৭টি হোটেলকে শোকজ় করে দমকল। ‘শিখা ইন’-এর যে অংশে আগুন লাগে, সেটি ছাড়া তার আরও একটি অংশ ওই ভবনেরই পাঁচতলায় ছিল। দ্বিতীয় অংশটি বীরেশ্বরের থেকে উমেশ সিংহ এবং জিতেন সিংহ নামে দু’জন লিজ় (ইজারা) নিয়েছিলেন। শুক্রবার তাদের জেরা করা হয়। হোটেলের কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আবু জ়াফরকে। তিনি মালিক বীরেশ্বরের থেকে ‘শিখা ইন’ হোটেলটি লিজ় (ইজারা) নিয়েছিলেন। মাসিক ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে।

সূত্র: আনন্দবাজার