পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির পর সম্ভাব্য নতুন সদস্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার এই জোটে মিসর যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
রোববার (১৬ আগস্ট) আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরের অংশগ্রহণ সম্ভব। ভবিষ্যতে চুক্তিটি আরও দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথাও জানান তিনি।
গত শুক্রবার পবিত্র নগরী মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি ‘মক্কা প্যাক্ট’ নামেও পরিচিত।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটি সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর তুলনা করছেন কয়েকজন বিশ্লেষক। তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা চুক্তিটিকে সরাসরি ন্যাটোর সমতুল্য হিসেবে দেখাতে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। একই সঙ্গে এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট নয় বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এরদোয়ান বলেন, চুক্তিটি ইতোমধ্যে বিশ্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে এবং সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় মিসরও থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ মিসরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে কায়রোর সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় মিসরের ভূমিকা বিবেচনায় নিলে এর সম্ভাব্য প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা, সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিভিন্ন সংকট নিয়েও কথা বলেন। ফলে তিন দেশের প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাব্য সম্প্রসারণের আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সময়ের আলো/