Image description

রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি নিষেধাজ্ঞার বিল অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই শুল্কের তালিকায় ভারত ও চীনও রয়েছে।

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক গ্রাহাম গত ১১ জুলাই মারা যান। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছিলেন।

মার্কিন সিনেট ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদন করেছে। গ্রাহামের মৃত্যুর পর সিনেটে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া বোন ডার্লিন গ্রাহাম বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এমন জায়গায় আঘাত করবে, যেখানে তিনি সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করবেন।’

ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালও গ্রাহামের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে বিলটি পাসের জন্য কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন থেকে দেখছেন—আর পুতিন মস্কো থেকে দেখছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করতে চাই, লিন্ডসে গ্রাহামও এটি দেখছেন।’

ব্লুমেনথাল বলেন, ‘আজ আমরা ইউক্রেনের জনগণকে বলছি: আপনারা একা নন। আর আজ আমরা ভ্লাদিমির পুতিনকে বলছি: আপনি ইউক্রেন দখল করতে পারবেন না।’

বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। ৩১ আগস্ট অধিবেশন শুরু হলে সেখানে বিলটি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া হবে।

বর্তমানে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় আমদানিকারকদের মধ্যে ভারত ও চীনের পাশাপাশি আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়াও রয়েছে। তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিলটিতে শুধু শুল্ক আরোপের বিষয়ই নয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি থেকে আয় করা অর্থের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ থাকছে। মস্কো যেসব পুরোনো তেলবাহী জাহাজের পতাকা পরিবর্তন করে বা অন্যভাবে ব্যবহার করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, সেসব জাহাজও নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ থেকে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ওই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয়—এমন প্রমাণ কংগ্রেসের কাছে দিতে হবে প্রেসিডেন্টকে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশনস অ্যাক্টের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এই আইনের আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।