Image description

বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্ককে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, মাস্ক কেবল বিতর্কিত রাজনৈতিক মত প্রকাশেই সীমাবদ্ধ নন; বরং তিনি বর্ণগত বিভাজন, ইসলামবিদ্বেষ এবং উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছেন। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্টের প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ককে ইসলাম ও মুসলিমদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি ইসলামবিরোধিতা অস্বীকার না করে মুসলিমদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি ধর্ষণ, হত্যা, পশ্চিমা মূল্যবোধের বিরোধিতা এবং আইন চাপিয়ে দেওয়ার মতো বিষয় উল্লেখ করেন। সমালোচকদের দাবি, মাস্কের এসব মন্তব্য দীর্ঘদিন ধরে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রচারিত ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। যা তিনি সচেতনভাবেই মুসলিমদের সহজাত সহিংসতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন। 

Islam

 

 

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মাস্ক নিজেকে বর্ণবাদী হিসেবে অস্বীকার করলেও তার রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। মাস্ক মুসলিমদের একটি অভিন্ন ও সহিংস গোষ্ঠী হিসেবে উপস্থাপন করে পশ্চিমা সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে চিত্রিত করছেন।

 

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, মাস্ক দীর্ঘদিন ধরে ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’ ও ‘হোয়াইট জেনোসাইড’-এর মতো বিতর্কিত তত্ত্ব নিয়ে পোস্ট করে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তিনি এ ধরনের বিষয় নিয়ে প্রায় প্রতিদিন পোস্ট করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এক্স-এ তার একটি পোস্ট—‘শ্বেতাঙ্গরা দ্রুত সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে’—কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে।

 

বিশ্লেষকের মতে, মাস্কের এসব বক্তব্য কেবল মত প্রকাশ নয়; বরং জনমনে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনকে ‘শ্বেতাঙ্গদের অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার একটি রাজনৈতিক প্রচেষ্টা।

 

নিবন্ধে মাস্কের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এবং ফ্রান্সের ন্যাশনাল র‍্যালি, জার্মানির অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)সহ বিভিন্ন উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি এক্স প্ল্যাটফর্মে কয়েকজন পরিচিত উগ্র ডানপন্থী কর্মীর অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

প্রতিবেদনটি আরো দাবি করে, মাস্ক একাধিকবার সম্ভাব্য ‘গৃহযুদ্ধ’ ও সামাজিক যুদ্ধের আশঙ্কার কথা বলে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা তার অনুসারীদের মধ্যে ভীতি ও বিভাজন বাড়াতে পারে। লেখকের মতে, এসব বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতি বর্ণনার চেয়ে বরং বর্ণগত সংঘাতের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

 

বিশ্লেষণে আরো বলা হয়েছে, ইলন মাস্ককে শুধু একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ী হিসেবে দেখলে তার রাজনৈতিক প্রভাবের গুরুত্ব অনুধাবন করা যাবে না। লেখকের দাবি, বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষমতা, বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মালিকানা এবং বিপুল অনুসারীকে কাজে লাগিয়ে তিনি এমন একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিবেশ তৈরি করছেন, যা ভবিষ্যতে সামাজিক ও বর্ণগত উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। 

রাজনৈতিকবিশ্লেষণ

 

 

সূত্র: মিডলইস্ট আই