মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সুচি আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দেশটির সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। ৮১ বছর বয়সী সুচির স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে এই সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারি মুখপাত্র খাইন খাইন সোয়ে টেলিগ্রামে জানান, রাজধানী নেপিডোতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির মিয়ানমার প্রতিনিধি আর্নো দ্য বাক-এর সঙ্গে সুচির সাক্ষাৎ হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সরকার প্রকাশিত চারটি ছবির মধ্যে দুটিতে ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ পোশাক পরিহিত সুচিকে একটি সাধারণ কক্ষের মধ্যে রেডক্রস কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে তাকে নিজের নাম লেখা একটি জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা গেছে। কেকে লেখা ছিল, ‘হ্যাপি বার্থডে আন্টি সু ২৯.৬.২০২৬’। তবে ছবিগুলো কোথায় এবং ঠিক কবে তোলা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুচির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর থেকেই তিনি বন্দি রয়েছেন। তার অবস্থান ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছে এবং গত কয়েক বছরে কোনো বিদেশি নেতা বা বিশেষ দূত প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি।
বিভিন্ন মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সুচিকে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার রাজনৈতিক মিত্রদের দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে সামরিক বাহিনীর আয়োজিত নির্বাচনের পর, যেখানে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হন, কর্তৃপক্ষ জানায় যে- সুচিকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে তার সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়। তার সহযোগী সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট-কেও মুক্তি দেয়া হয়। তবে নতুন সামরিক প্রশাসন এখনও সুচির সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের সুযোগ দিতে অনাগ্রহী। গত মে মাসে আসিয়ানের বিশেষ দূতের সঙ্গে সুচির সাক্ষাতের জন্য ফিলিপাইনের অনুরোধও অনুমোদন করা হয়নি।
গত ডিসেম্বরে জান্তা সরকার দাবি করে, সুচি সুস্থ আছেন। তবে তার ছেলে রয়টার্সকে জানান, বহু বছর ধরে তিনি মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি এবং তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে খুব সামান্য তথ্যই পেয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মায়ের মৃত্যুর খবরও হয়তো তিনি সময়মতো জানতে পারবেন না।