Image description

ভারতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান, লাঠিচার্জ এবং নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার দাবি, যদি শাহ এ ধরনের নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তবে তিনি দায়ী; আর যদি কিছুই না জেনে থাকেন, তবে তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। উভয় ক্ষেত্রেই তার পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা।

এর আগে একই দিন লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনার সময় রাহুল গান্ধী দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন অমিত শাহ। এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, দিল্লি পুলিশ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) উভয় বাহিনীই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরই বর্তায়।

তিনি জানান, ২৫ জুলাই অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখে জানতে চেয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কি না এবং সাদা পোশাকে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না। তবে সেই চিঠির কোনো জবাব বা প্রাপ্তিস্বীকারও পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধী জোট শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে। আমাদের কাছে ছবি ও ভিডিও রয়েছে। দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত অমিত শাহকে অপসারণ করে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা।

লোকসভায় তাকে বক্তব্য দিতে না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন রাহুল। তিনি বলেন, স্পিকারের কাছে একাধিকবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও তা পাননি। এমনকি ক্ষমা চাইলে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে বিজেপি, আরএসএস বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও কাছে তিনি ক্ষমা চাইবেন না বলে স্পষ্ট জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং বাজরং দলের সদস্যদের ব্যবহার করে হয়রানি চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি; কেবল টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল এ প্রশ্নই ওঠে না।

এর জবাবে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, পেলেট গান একটি প্রাণঘাতী অস্ত্র এবং কাছ থেকে ছোড়া হলে তা প্রাণহানি বা স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি একজন আহত ব্যক্তিকে উপস্থিত করেছিলেন, যার শরীরে ও চোখে পেলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তি পেলেট গানে আহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সরকারের অস্বীকার সত্ত্বেও তার কাছে এ ঘটনার প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সূত্র: দ্য ওয়্যার