নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তি সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, মামদানি শহরে বিভাজন, ঘৃণা ও ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন।
রোববার (২৭ জুলাই) ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচার্স’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি নিউইয়র্কে গিয়ে জাতিসংঘের মঞ্চে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।
এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি নিউইয়র্কে স্বাগত নন। এর জবাবে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মামদানির স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই হামলাকে উদ্যাপন করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষাৎকারে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ওঠা গণহত্যার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, হামাসের ঘোষিত লক্ষ্যই ইসরায়েল ও ইহুদিদের ধ্বংস করা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির দায়ও সংগঠনটির।
নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তার অভিযোগ, বর্তমান মেয়র শহরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন, যা ইহুদি বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক এক ছুরিকাঘাতের ঘটনাও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের পরদিনই নিউইয়র্কে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্কের প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
এদিকে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫১ বছর বয়সী রাউল মোরালেসের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাচেষ্টার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ম্যানহাটনে পৃথক দুটি হামলায় এক এশীয় ব্যক্তি ও এক ইহুদি ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শীর্ষনিউজ