Image description

বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের বাসায় উঠেছেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। দুই দিন আগে পদত্যাগের পর গতকাল রোববার বেলা আড়াইটার দিকে সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বিকেল ৩টার দিকে গুলশান ১ নম্বর অ্যাভিনিউয়ের ১২৩ নম্বর সড়কের বাড়িতে নিজের ফ্ল্যাটে পৌঁছান।

এদিকে সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত নিয়ে গতকাল পৃথক অনুষ্ঠানে সরকারের একাধিক মন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও এ নিয়ে কথা বলেছেন।  

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোঃ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আমলে নেওয়ার মতো কিছু নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধী দল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তারা সেটা করতে পারে। কিন্তু আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।  

গতকাল রোববার চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে সরকার সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, জনদাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, মোঃ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলাদা কোনো অনুসন্ধান চালাবে না। তবে পুরোনো কোনো ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

গতকাল বাংলাদেশ আজাদি পার্টি ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামের দুটি সংগঠন পৃথকভাবে দুটি অভিযোগ দাখিল করেছে। সাহাবুদ্দিনের পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছে আজাদি পার্টি।

শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। তারপর থেকেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তিনি। তবে থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই। 

এদিকে মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর কে নতুন রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিএনপির কোনো জ্যেষ্ঠ নেতা নাকি অন্য পেশার কেউ রাষ্ট্রপতির পদে আসবেন– তা নিয়েও চলছে আলোচনা। গত শনিবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

বঙ্গভবন থেকে গুলশানে

গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হয়। তাঁর গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি যান এই বহরে ছিল। গণমাধ্যমকর্মীরা দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হয়। বিকেল ৩টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় গুলশানের বাসায় পৌঁছান সাবেক রাষ্ট্রপতি।  

সরেজমিন দেখা গেছে, গুলশান-১ এর ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর ভবনের নিচতলায় প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের পর তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে (মেটাল ডিটেক্টর গেট) বসানো হয়েছে। এর পাশে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এ ছাড়া নিচতলায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।   

‘গ্রিন ভিলা’ নামের ৪১ নম্বর ভবনের পাঁচতলার ফ্ল্যাটটি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী মো. মাছুম বলেন, মোঃ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সপরিবারে এই ফ্ল্যাটে থাকতেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বঙ্গভবনে চলে যান। তখন এই বাসায় কেউ নিয়মিত বসবাস না করলেও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মাঝেমধ্যে আসতেন।  

সড়কের মুখে দায়িত্ব পালন করা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একজন সদস্য জানান, সকাল থেকে তারা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। 

ভবনটির বিপরীত পাশে ১২৫ নম্বর সড়কের মুখে অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাদের একজন জানালেন, সকাল ৯টা থেকে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু হয়েছে। শেষ হবে রাত ৯টায়। এরপর পুলিশের আরেকটি দল আসবে সেখানে। 

১১৬ নম্বর সড়কেও পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। 

সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ শাসনামলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।  গতকাল পৃথকভাবে এসব অভিযোগ দায়ের করে বাংলাদেশ আজাদি পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।  

বাংলাদেশ আজাদি পার্টির প্রধান সংগঠক বোরহান মাহমুদ এবং রাষ্ট্র সংস্কার ফোরামের সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস গতকাল ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দুটো দাখিল করেন। ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ভার বা ‘সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি’র অভিযোগ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়েছে দুটি সংগঠন। 

পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগগুলো তো আমি পড়ে দেখিনি। অভিযোগ আমাদের কাছে এলে আমরা সাধারণত তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দিই। এ ক্ষেত্রেও আমার কাছে উপস্থাপিত হলে সেটা আমি তদন্ত সংস্থায় পাঠিয়ে দেব।’ 

বাংলাদেশ আজাদি পার্টির আহ্বায়ক লে. কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্ট পর্যন্ত এত লোককে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে; কোনোদিন প্রতিবাদ করেননি সাবেক এই দুই রাষ্ট্রপতি। এসব অপরাধে তাদের মৌন সম্মতি ছিল।’ 

আজাদি পার্টির প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, গুম, খুন, আয়নাঘরসহ বাংলাদেশে যতগুলো গণহত্যা হয়েছে, যতগুলো নারকীয় ঘটনা ঘটেছে– সব ঘটনার সময় এই দুজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন।’ 

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামের সংগঠনটি শুধু সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস জানান, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁকে গুম করা হয়। পরদিন ১৯ জানুয়ারি বাংলামোটর এলাকায় তাঁকে ফেলে যাওয়া হয়। 

আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বা সংশ্লিষ্ট সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ২৮ জনের ভূমিকা আইনানুগভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, রিয়াজ আহমেদ, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, হিরো আলম, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, সুজাতা আজিম, জায়েদ খান, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, আসাদুজ্জামান নূর, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, মোবিন মেহেদী, সোমা ইসলাম ও আনিস আলমগীর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বললেন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল সচিবালয়ে বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের শেষ দিক, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের এই প্রায় পাঁচ-ছয় মাসের এই সময়ে সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধিবিধান অনুযায়ীই করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি।’ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে তিনি প্রিভিলেজড এবং তাঁর ইমিউনিটি আছে। ফৌজদারি অপরাধেও আদালতে মামলা করা যায় না। এর বহির্ভূত কোনো সময় নিয়ে যদি কোনো বক্তব্য কেউ দিয়ে থাকে, সেটা তাদের স্বাধীনতা আছে। তবে আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় এখানে দেখিনি।’  
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি অবশ্যই আইনানুগ সুবিধা পাবেন এবং ছয় মাস এসএসএফ-পিজিআর দিয়ে নিরাপত্তা পাবেন। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট মোঃ সাহাবুদ্দিনের ফোনালাপ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটা আমরা পত্রিকায় দেখেছি। আমাদের কাছে সে রকম কোনো তথ্য নেই।’

বিএফআইইউর প্রতিবেদনেও সাহাবুদ্দিনের নাম

আর্থিক খাতে সবচেয়ে বড় জালিয়াতিতে অভিযুক্ত এস আলম ২০১৭ সালের জুনে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জেএমসি বিল্ডার্সের পক্ষে ব্যাংকটির পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হন মোঃ সাহাবুদ্দিন। ওই সময়ে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর জেএমসি বিল্ডার্সের পক্ষে ব্যাংকটির পরিচালক ও চেয়ারম্যান হন এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটির ঋণ জালিয়াতি ও শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাহাবুদ্দিনের নাম রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জেএমসি বিল্ডার্সসহ ২৪টি কোম্পানির নামে ইসলামী ব্যাংকের মোট ১৩১ কোটি ৮৯ লাখ শেয়ার ছিল এস আলমের হাতে, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৯১ দশমিক ৯২ শতাংশ। এসব শেয়ার এখন জব্দ রয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একক পরিবার, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে পারে না। আর কারও বেনামি শেয়ার চিহ্নিত হলে তা বাজেয়াপ্ত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণের নামে এস আলম গ্রুপ ২ লাখ ২৫ হাজার ৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রুপটি নিয়ে গেছে ৮৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। এসব ঋণের বড় অংশ সৃষ্টি হয় মোঃ সাহাবুদ্দিন ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে আদালতে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এই জালিয়াতিতে সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। 

ইসলামী ব্যাংকের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০২৫ সালের ১১ মার্চে এক আদেশে তিনটি নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে রয়েছে জেএমসি বিল্ডার্সের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা, পর্ষদ ভাঙার আগে ঋণ জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত পরিচালকরা আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না এবং অভিযুক্ত পরিচালকদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা। পরে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে বিএফআইইউ। যেখানে সম্পৃক্ত পরিচালক হিসেবে সাহাবুদ্দিনের নাম রয়েছে। 

‘সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সেফ এক্সিট দিতে চায় বিএনপি’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে সরকার গঠনের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয় এবং এখন তাঁকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল দুপুরে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিচারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আখতার হোসেন বলেন, ‘গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির জায়গা থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেননি, বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। অতীতে তাঁর বিভিন্ন অপকর্ম রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রেও তিনি জড়িত ছিলেন। আমরা জেনেছি, লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এসব কারণে তাঁকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’