যোগ দিয়েছেন নতুন চাকরিতে। ভেবেছিলেন নতুন কর্মপরিবেশে দেওয়ার সুযোগ পাবেন নিজের সেরাটা; কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টো। নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে অফিস ছাড়তেই সিইওর ফোন ও মেসেজ। শুধু তাই নয়, বকেয়া পাওনা পেতেও অপেক্ষা করতে হয়েছে দিনের পর দিন।
নতুন চাকরিতে যোগদান করে মাইক্রোম্যানেজমেন্টের শিকার হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবেই নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন এক জেনজি কর্মী।
জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম রেডিটে পোস্ট করে ওই কর্মী জানালেন, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে অফিস থেকে বের হওয়ায় খোদ কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর (সিইও) কাছ থেকে সরাসরি মেসেজ ও ফোন কল পেতে হয়েছে তাকে।
রেডিটে দেওয়া ওই পোস্টে জেনজি কর্মী সিইওর সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে লিখেছেন, ম্যানেজার ঘণ্টার পর ঘণ্টা গায়েব থাকেন ব্রেকের নামে। তাকে কেউ বলে না একটি কথাও। সহকর্মীরাও অনায়াসে নেন ৩০ মিনিটের বিরতি।
‘আমি তো সারাদিনে ঠিকমতো একটা ব্রেকও নিই না। আর একদিন একটু আগে বের হতেই আমাকে ফোন আর মেসেজ পেতে হলো। একদিন একটু আগে বের হওয়ায় নাকি আমার দোষ’, পোস্টে যোগ করেন ওই কর্মী।
শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানে বকেয়া বেতন ও পাওনা পরিশোধে ঢিলেমির কথাও তুলে ধরেন তিনি। ওই কর্মী জানালেন, অফিসের কাজের খরচ তাকে দিতে হয়েছিল নিজের পকেট থেকেই। কিন্তু বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও সেই টাকা ফেরত পেতে সময় লেগে গেছে ১৭ দিন।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কাজের পরিবেশ কতটা বিষাক্ত, তার আরও নমুনা দেন এই তরুণ কর্মী। তার ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল, বিনা বেতনে একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টার্ন নিয়োগ দেওয়ার জন্য।
সুপারভাইজার তাকে জানিয়ে দেন, যদি বিনা বেতনে কাউকেই রাজী করানো না যায়, তবে ভিডিও তৈরি থেকে শুরু করে কোম্পানির সব সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের কাজ নিজেকে করতে হবে একাই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই জেনজি কর্মীর এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়তেই ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। কর্মক্ষেত্রের এমন রেড ফ্লাগ নিয়ে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, অবৈতনিক এক ইন্টার্নশিপে আমাকে শুধু বসিয়ে রাখা হতো সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। একদিন ১০ মিনিট আগে বের হওয়ায় আমাকেও শেখানো হচ্ছিল করপোরেট কাজের নিয়ম। আমিও সঙ্গে সঙ্গেই করি এর প্রতিবাদ।
সূত্র : এনডিটিভি