Image description

ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে শত্রুপক্ষের আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ লঙ্ঘনের পর দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানি সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে দেশটির প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির। 

 

ইরানের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি একীভূত কমান্ড কাঠামোর অধীনে কাজ করায় প্রতিপক্ষকে আর আলাদা আলাদা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হয় না; বরং একটি সমন্বিত সামরিক শক্তির মোকাবিলা করতে হয়। দ্রুতগতির নৌযান, সাবমেরিন, ড্রোন ও উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্তর একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় যে কোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে বহুস্তরীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

সম্প্রতি সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির মুখপাত্রদের এক যৌথ বৈঠকে উভয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, সহযোগিতা এবং গণমাধ্যম কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ইরানের সেনাবাহিনী পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে সমন্বিত তথ্য প্রচার এবং যৌথ যোগাযোগ কৌশল বাস্তবায়নের বিষয়ে সমঝোতা হয়।

বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ইসলাম, বিপ্লব ও দেশের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইরানের সব সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং শত্রুপক্ষের প্রচারযুদ্ধ মোকাবিলায় তারা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের পরিকল্পনা নতুন নয় বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রহিম সাফাভি। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০১১-১২ সালেই তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে হরমুজ প্রণালি বন্ধের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনা প্রণয়নে আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদেরও সম্পৃক্ততা ছিল বলে তিনি জানান।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ দেশটির প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। তাদের দাবি, প্রতিরোধ তখনই কার্যকর হয় যখন প্রতিপক্ষ মনে করে আক্রমণের খরচ সম্ভাব্য লাভের চেয়ে অনেক বেশি। সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সমন্বিত সক্ষমতা সেই প্রতিরোধ শক্তিকে আরও জোরদার করেছে।  

 

 

বিশ্লেষণে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। বরং দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প নিজস্ব প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়েছে—যদি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায়, তাহলে তারা কেন কেবল দক্ষিণাঞ্চলে হামলা সীমিত রাখছে? ইরানের সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বাহিনীগুলোর সমন্বিত শক্তির কারণে সংঘাতের পরিধি বাড়ালে তারা আরও বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে। সে কারণেই তারা বৃহত্তর সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী।

তবে এসব বক্তব্য মূলত ইরানের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বাধীনভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।