তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি, কিন্তু ইউরোপ যেন সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ হামলার হুমকিকে সামনে রেখে এবার ব্রিটিশ নাগরিকদের খাদ্য ও পানি ও প্রয়োজনীয় বস্তু মজুদ রাখার পরামর্শ দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। একই সঙ্গে দেশ জুড়ে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে নতুন প্রতিরক্ষা মহড়ার পরিকল্পনা।
মন্ত্রীদের প্রণয়নাধীন নতুন পরিকল্পনায় পরিবারগুলোকে জরুরি পরিস্থিতির জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধংদেহী অবস্থান এবং ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের উদ্বেগও বেড়েছে। তবে এক তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকারোক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যারেন জোনস জানিয়েছেন, সরকার আশঙ্কা করছে আগামী বছরই কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড’ হামলা চালাতে পারে।
তিনি এমপিদের বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা করতে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ‘জাতীয় স্বদেশ প্রতিরক্ষা মহড়া’ আয়োজন করা হবে। এটি জনগণকে প্রস্তুত করতে নেওয়া ‘সহনশীলতা ও জনসচেতনতা কর্মসূচির’ অংশ।
জোনস বললেন, ‘জরুরি পরিস্থিতি ও সেবাব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে প্রস্তুত থাকার জন্য মানুষ ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে।’
তিনি এমপিদের বলেছেন, সম্ভাব্য সংকটের ক্ষেত্রে এমন সাইবার হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যা ‘বিদ্যুৎ, পানি, মোবাইল ফোনের সংযোগ বা স্থানীয় দোকান থেকে খাদ্য সংগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে।’
এই সতর্কবার্তা এসেছে হোয়াইট হলে গত বছর পরিচালিত কৌশলগত প্রতিরক্ষা পর্যালোচনার পর। ওই পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল, শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলো প্রতিদিনই যুক্তরাজ্যের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
এসব রাষ্ট্রের মধ্যে ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের নামও উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সামরিক শক্তি প্রয়োগ, বেসামরিক মানুষের ক্ষতি করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেওয়ার’ মানসিকতা দেখিয়েছেন পুতিন।
বর্তমানে ইউরোপীয় জোট নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ রাখতে নির্দেশনা দেয়। এর মধ্যে পরিচয়পত্র, টিনজাত খাবার, বোতলজাত পানি, দিয়াশলাই এবং এমনকি একটি সুইস আর্মি নাইফও রয়েছে।
জোনস এমপিদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য অতীতেও ‘মহামারী, প্লেগ, যুদ্ধ এবং বৈরী আবহাওয়াসহ নানা চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।’
তিনি আরও বলছিলেন, ‘আমরা যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারি, সেগুলো নিয়মিত মূল্যায়ন করা এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করাই সঠিক কাজ।’
গত মে মাসে মন্ত্রীদের সতর্ক করে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের মতো বড় ধরনের ধাক্কা মোকাবিলায় ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা প্রস্তুত নয়। ইউরোপের অন্যান্য দেশের ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ মোকাবিলার পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মেলাতে দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ওয়েস্টমিনস্টারে ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস কমিশনের উদ্যোগে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, জরুরি ওষুধসহ প্রয়োজনীয় মজুদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্রিটেন ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এতে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘জাতীয় স্বদেশ প্রতিরক্ষা মহড়া’ আয়োজন করা হবে। এতে শত শত কর্মকর্তা অংশ নিয়ে সম্ভাব্য সমন্বিত হুমকি মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি যাচাই করবেন এবং ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করবেন।