ইরানে সব পারমাণবিক স্থাপনা সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের ২২ জুন নিজের ট্রুথ সোশ্যালে সে খবরই দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণার এক বছর না যেতেই আবারও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পিকআক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি! শুধু মাধ্যমটা এবার আলাদা— হিউ হিউইটের রেডিও শো। নতুন করে শুরু হওয়া হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিউ হিউইটের ওই শোতে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। রয়টার্স, সিএনএন।
পিকঅ্যাক্স পর্বত। ফার্সি নাম কুহ-ই কোলং গাজ লা। ইরানের এসফাহন প্রদেশের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপনীয় ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, এ পর্বতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটি গোপন ও অঘোষিত স্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে তেহরান। যেটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি ‘কৌশলগত সুরক্ষাব্যবস্থা’ হিসেবে কাজ করবে। তবে ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নির্মাণাধীন স্থাপনাটিকে ইরান একটি ‘সেন্ট্রিফিউজ অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট’ বা সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কেন্দ্র হিসেবে দাবি করে আসছে। ট্রাম্পের দাবি ইরানের এ কুহ-ই কোলং গাজ লাতে বর্তমানে নেই কোনো কার্যকলাপ। পারমাণবিক পরিস্থিতিতেও তেহরান এখন খারাপ সময় পার করছে বলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বলেছেন, ‘আমরা পিকঅ্যাক্স পর্বত ধ্বংস করতে যাচ্ছি। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।’ হরমুজ প্রণালি দখলে চলমান এ যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্পের এ হুমকি পরিস্থিতি আরও অবনতির মুখে পড়েছে। ইরানের গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী দেশটির কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপপুঞ্জ এবং বন্দর আব্বাস, জামসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব এলাকার ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে কোনো তথ্য দেয়নি তেহরান।
পিকঅ্যাক্স পর্বত: পিকঅ্যাক্স পর্বত দেশটির প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র নাতানজ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার (শূন্য দশমিক ৯ মাইল) দক্ষিণে জাগ্রোস পর্বতমালায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০৮ মিটার (৫ হাজার ২৭৬ ফুট) উঁচু একটি গ্রানাইট পাথরের পর্বতের গভীরে অবস্থিত। এই পর্বতের চারপাশ জুড়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ নিরাপত্তাবেষ্টনী রয়েছে, যা নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রের মূল সীমানার সঙ্গে সংযুক্ত। পর্বতটিতে অবস্থিত সুড়ঙ্গের রয়েছে একাধিক প্রবেশপথ। স্থাপনাটি মাটির নিচে ১০০ থেকে ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত গভীরতার কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাংকার-ব্লাস্টার বোমার পক্ষেও এটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা কঠিন।
মোজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ: ইরান জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং শীর্ষ কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘৯০ শতাংশ শেষ’ হয়ে গেছেন। গত সপ্তাহে তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায়ও অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে মোজতবাকে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ‘তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই, সব শেষ হয়ে গেছে। তাদের বিমান-বিধ্বংসী ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের সব সেরা নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘এই যুদ্ধে ইরানের সেরা নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর ট্রাম্প বলেছেন, ‘তার ছেলেও ৯০ শতাংশ শেষ।’ বাবা আলি খামেনি নিহত হওয়ার ওই একই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসায় তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে ট্রাম্পের ওই মন্তব্য মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।