Image description

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এবার তসলিমা নাসরিনের কলকাতা ফেরা নিয়ে আবারও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবার একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে— দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দূরত্ব কি এবার ঘুচতে চলেছে? এর মধ্যে তার পশ্চিমবঙ্গে ফেরার তারিখও জানা গেল।

আগামী ১ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদবিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ‘নির্বাসিত’ লেখিকা। সেখানে কবিতা পাঠ করার কথা তার। অনুষ্ঠানে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন তসলিমা নিজেই।

প্রথমে জল্পনার সূত্রপাত প্রবাসী এক বাংলাদেশির ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফেরার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারের আমলে তসলিমার নির্বাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয় এবং বিজেপি আমলে তার প্রত্যাবর্তনের পক্ষে মতপ্রকাশ করা হয়। সেই পোস্টটিই নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন তসলিমা নাসরিন। তবে পোস্টের সঙ্গে তিনি কোনো নতুন মন্তব্য বা ব্যাখ্যা যোগ করেননি।

তবে এ পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। অনেকের দাবি, সাহিত্য বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নের পাশাপাশি তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে বারবার রাজনৈতিক মেরূকরণের আবহ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিতর্কিত মন্তব্য ও ধর্মীয়বিষয়ক অবস্থানের কারণে বহুবার সামাজিক উত্তেজনা বেড়েছে। সে কারণেই তার প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি শুধু সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক ইস্যু হিসেবে দেখা সম্ভব নয়।

সমালোচকদের আরও বক্তব্য, তসলিমাকে কেন্দ্র করে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ বনাম ‘তুষ্টিকরণ রাজনীতি’র একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করেছে। ফলে তার নাম সামনে এলেই বিষয়টি সাহিত্য থেকে সরে রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে চলে যায়। অন্যদিকে তসলিমার সমর্থকদের দাবি, একজন লেখকের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করা গণতান্ত্রিক সমাজের দায়িত্ব।

তবে কলকাতায় ফেরার ইচ্ছার কথা তসলিমা এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন। গত মে মাসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার আবার কলকাতায় ফিরে থাকার আশা জেগেছে। তিনি বললেন, বাংলা ভাষা, কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং বইমেলার সঙ্গে আবার যুক্ত হতে চান। প্রয়োজনে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।

এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চে রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য তসলিমা নাসরিনকে নিরাপদে কলকাতায় ফিরতে দেওয়ার দাবি তোলেন। তিনি বলেছিলেন, তসলিমা কলকাতাকে নিজের শহর মনে করেন এবং বাংলা ভাষায় লেখালেখি চালিয়ে যেতে চান। সেই ঘটনার পর শমীক ভট্টাচার্যকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন তসলিমা।

২০০৭ সালে কলকাতায় বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরিস্থিতির জেরে তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি আর কলকাতায় স্থায়ীভাবে ফিরতে পারেননি। গত কয়েক বছরে একাধিকবার ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।