বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত ভবন হিসেবে গণ্য করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসকে। সেখানে ঢুকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশানারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক শীর্ষ কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম।
ইরানের স্থানীয় সংবাদ ওয়েবসাইট ‘ফারারু’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তেহরান চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হোয়াইট হাউসের ভেতরে ঢুকেও ট্রাম্পের ক্ষতি (হত্যা) করতে সক্ষম।
হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম বলেন, ‘যদি ট্রাম্পকে হত্যা করাই মূল লক্ষ্য হয়, তবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষে হোয়াইট হাউসের ভেতরেই তা সহজে করা সম্ভব। যখনই প্রয়োজন হবে, আমরা তা করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুমকির পাশাপাশি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান আলোচনা প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন আইআরজিসির সাবেক ঊর্ধ্বতন কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আমেরিকানদের সঙ্গে শান্তির জন্য আলোচনা করছি না। আমরা আলোচনা করছি কেবল উত্তেজনা কমানোর জন্য।’
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো ওয়াশিংটনের করা বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়া, ইরানের নিজস্ব দাবিগুলোকে আরও জোরালো করা এবং নিজেদের অবস্থান বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে সাবেক এই আইআরজিসি কমান্ডার বলেন, ‘আমরা ট্রাম্প ও তার অপরাধী সহযোগীদের সঙ্গে শান্তির জন্য কোনো সংলাপে বসছি না। এই আলোচনায় আমরা কেবল আমাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের করা অভিযোগগুলো স্পষ্ট করতে চাইছি। আর মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও পাল্টা আক্রমণের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে সব সময়ই জোরালোভাবে রয়েছে।’
সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তার এমন মন্তব্যকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে আসা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ও সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই তেহরান বারবার ট্রাম্পসহ তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে আসছে। কানানি মোগাদ্দামের এই নতুন বক্তব্য সেই দীর্ঘদিনের উত্তেজনায় আরও ঘি ঢালল।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের ১ নম্বর ‘কিলিং টার্গেট’ তিনি। যদিও দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোর্স্ট, মিডল ইস্ট মনিটর