অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্ত হিসাবে ইরানের ১২০০ কোটি ডলার জব্দ সম্পদ মুক্ত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অর্থ ৬০০ কোটি ডলার করে দুদফায় ছাড় দেওয়া হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ তথ্য জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালি নিয়ে তিনি বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন থেকে তেহরান পরিচালনা করবে।
গালিবাফের উদ্ধৃতি দিয়ে মঙ্গলবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জব্দ অর্থ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পদক্ষেপটি দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার তাৎক্ষণিক ফল। এ নিয়ে সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়েছে। গালিবাফ এ তহবিল মুক্তিকে সমঝোতা স্মারকের অধীনে তেহরানের অন্যতম প্রধান অর্জন বলে বর্ণনা করেন।
গালিবাফ আরও জানান, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি, পেট্রোকেমিক্যাল ও সংশ্লিষ্ট উপজাত পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহণ খাত পর্যন্ত বিস্তৃত।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের চলাচল বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সাবেক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি এনশার বলেন, জাহাজ চলাচলের অগ্রগতি ইঙ্গিত দেয়-চুক্তিটির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘উভয়পক্ষই এটা দেখাতে খুব আগ্রহী যে, কোনোভাবে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন, অথবা অন্তত তাদের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে না।’
এএফপি লিখেছে, ছাড়ের অর্থ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার বলেন-এ অর্থ দিয়ে ইরান সয়াবিনসহ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। জেনেভায় জাতিসংঘের দূত আলি বাহরাইনি এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, ইরান সিদ্ধান্ত নেবে, তারা তাদের অর্থ কিসে ব্যবহার করতে চায়। তিনি জানান, শিগগিরই এ অর্থ মুক্ত হতে যাচ্ছে।
পাকিস্তান সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে দেশটিতে গেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার সঙ্গে আছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও। মঙ্গলবার পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ডন অনলাইন এ খবর জানিয়েছে। পাকিস্তানের সেনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এটি পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর।
সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ‘ভালো এবং খারাপ সময়ে’ ইরানের পাশে থাকার কথা বলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান। এক বিবৃতিতে পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক-বিশেষ করে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা, যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছেন।
আলী খামেনির দাফনের সময়সূচি ঘোষণা : ইরান সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের প্রথম হামলায় তিনি নিহত হন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুসারে, অনুষ্ঠানগুলো ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হয়ে ৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। ৭ জুলাই শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কোমে স্থানান্তর করা হবে। ৯ জুলাই খামেনিকে তার জন্মস্থান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দাফন করা হবে।
অংশগ্রহণ সহজ করার জন্য কর্তৃপক্ষ দাফনের প্রধান অনুষ্ঠানগুলোর সময় তেহরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, তেহরানের অনুষ্ঠানগুলোতে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। দাফন কার্যক্রম মূলত মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তা স্থগিত করা হয়।