Image description

ইরানের তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহারে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, অবমুক্ত করা ইরানি তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসক্রো হিসাবে সংরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক পরিদর্শনে সম্মত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে তেহরান।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় যে অর্থ বা নিষেধাজ্ঞা-সুবিধা অবমুক্ত করছে, তা এসক্রো হিসাবে সংরক্ষিত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই অর্থ শুধু খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে এবং সেগুলো একচেটিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই কিনতে হবে।’

তিনি বলেছেন, ভুট্টা, গম ও সয়াবিন রপ্তানির মাধ্যমে এই অর্থ মার্কিন কৃষকদের সহায়তা করবে। তার দাবি, ‘মানবিক সংকটের’ কারণে ইরানের এসব পণ্যের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

ইরানের তেল বিক্রির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী ছাড়পত্র জারি করার পর ট্রাম্প এই নির্দেশনার কথা জানান। নতুন পারমাণবিক কাঠামো চুক্তির অংশ হিসেবে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

আলাদা এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে রেকর্ড ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছে।

তার ভাষ্য, এর ফলে তেলের দাম কমছে এবং বিশ্ব আরও নিরাপদ হয়ে উঠছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ‘সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা’ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে তেহরান ‘পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে’ সম্মত হয়েছে।

তিনি জানান, এই অঙ্গীকার না থাকলে পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো না।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের অনুমতি দেওয়া হবে না।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের কাছ থেকে পাওয়া ‘বড় ধরনের ছাড়ের’ ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তিনি।

তবে প্রয়োজনে চলাচলে বিধিনিষেধ পুনর্বহালের জন্য সব মার্কিন জাহাজ আগের অবস্থানেই থাকবে বলেও জানান তিনি।

যদিও তার মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে ‘খুবই কম’।