Image description

জার্মানির বিরুদ্ধে বাণিজ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘ধারা ৩০১’ অনুযায়ী এই তদন্ত শুরু করেছে।

জার্মানি উদ্ভাবনী ওষুধের যথাযথ মূল্য না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর অন্যায় বা বৈষম্যমূলক প্রভাব ফেলছে কি না তা নির্ধারণ করাই এই তদন্তের উদ্দেশ্য।

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, জার্মানির দীর্ঘদিনের এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে সীমাবদ্ধ করছে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এই বিষয়টি সমাধানে দুই দেশ গত কয়েক মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে আসছিল জানিয়ে মার্কিন দপ্তর জানায়, আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর আগে ওয়াশিংটন ও বার্লিন কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমেরিকান রোগীদের ওপর বিশ্বের ওষুধ গবেষণা ও উন্নয়নের অতিরিক্ত বোঝা চাপানো উচিত নয়। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো- জার্মানি এমন একটি আইন দ্রুত কার্যকর করার পথে রয়েছে, যা উদ্ভাবনী ওষুধে তাদের ব্যয় আরও কমিয়ে দিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন বাণিজ্য অংশীদারদের উচিত ন্যায্য অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় বহন করা- তখন এটি একটি গুরুতর পদক্ষেপ।’ গ্রিয়ারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের উচিত নিজেদের ‘ন্যায্য অংশ’ বুঝিয়ে দেওয়া।

ট্রাম্পের এই প্রতিনিধি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য গত ২ এপ্রিল ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল, যা দুই দেশে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন বাড়াতে সহায়ক হবে। তার মতে, জার্মানিরও একই ধরনের গঠনমূলক আলোচনায় এগিয়ে আসা উচিত, যাতে এই ভারসাম্যহীনতা দূর করা যায়।

১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘ধারা ৩০১’ মূলত এমন বিদেশি বাণিজ্যিক নীতি মোকাবিলার জন্য তৈরি, যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্যের জন্য অন্যায্য বা ক্ষতিকর বলে মনে করে।