Image description

আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের চার বিভাগ ও এক জেলায় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় এই হাসপাতালগুলো চালু করা হবে। এর মধ্যে আগামী ১ আগস্ট প্রথম ধাপে বরিশাল বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। মূলত গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের অব্যবহৃত পড়ে থাকা শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই এই তোড়জোড় শুরু হয়।

 

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম

 

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে বৃহৎ পরিসরের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে শয্যাসংখ্যা সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর ও ফটোথেরাপি মেশিনসহ হাসপাতালগুলো চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা যন্ত্রাংশ আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হবে।

 

মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি ও পরিদর্শন

 

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করে আগস্টে চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

অন্যদিকে, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ছয় বছর পরও অব্যবহৃত পড়ে থাকা রংপুর শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালুর লক্ষ্যে অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, শুধু এই পাঁচটিই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরনের আরও অনেক অব্যবহৃত স্থাপনা রয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলোও সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান ইতোমধ্যে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন হাসপাতাল চালুর বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

 

রাজশাহীতে তিন মাসের মধ্যে আউটডোর সেবা

 

প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী শিশু হাসপাতালটি আগামী তিন মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা সচিব জানান, প্রথম ধাপে এই শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর (বহির্বিভাগ) সেবা চালু করা হবে এবং পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

সূত্র : বাসস