Image description

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত সমঝোতা চুক্তিটি ডিজিটাল মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে। গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সমঝোতার আওতায় ইরানের কাছে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে লেবাননে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

গতকাল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭-এর সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তিটি ইলেকট্রনিক্যালি স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে। এখন শুধু কাগজে কলমে স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। আগামী শুক্রবার জেনেভায় সেটি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তিতে সম্পূর্ণ স্বাক্ষর করা হয়েছে। ইরান চুক্তিটি ‘দ্বিতীয় পর্যায়ে’ যাচ্ছে। নতুন চুক্তির অধীনে ইরানের কাছে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।

‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামের এ চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্য প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথে প্রাথমিক পদক্ষেপ। কোনো পক্ষই চুক্তির খসড়ার বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি খসড়া প্রস্তাবগুলো প্রকাশ করেছে। সমঝোতার ১৪টি শর্তের মধ্যে রয়েছে যাবতীয় হামলা-সহিংসতা (চুক্তি স্বাক্ষরের পর) তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা; বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া; ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া; সমঝোতা চুক্তির পর চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এ সময়ে ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না যুক্তরাষ্ট্র;  ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক প্রত্যাহার করা; সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরবিষয়ক আলোচনা শুরু হবে, এ

 আলোচনার মেয়াদকাল হবে ৬০ দিন; বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের অর্থ ফ্রিজড্ অবস্থায় আছে, সেগুলো মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে; ইরানকে অবশ্যই ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ থামাতে হবে এবং পরমাণু প্রকল্পসংক্রান্ত স্থাপনার সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে; মূল শান্তিচুক্তির জন্য যে ৬০ দিনের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে, এর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আলোচনা হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে; মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; যুদ্ধের কারণে ইরানের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্গঠনসংক্রান্ত আলোচনা; চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির খসড়া প্রস্তুতসংক্রান্ত আলোচনা শুরু এবং ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষরের পর ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পুনর্গঠন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত আলোচনা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে লেবাননে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, তেহরানের দৃষ্টিতে অর্জিত এই চুক্তির এক পক্ষে রয়েছে ইরান ও হিজবুল্লাহ এবং অন্য পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। লেবাননে যুদ্ধের অবসান সম্পূর্ণ যুদ্ধাবসানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং যুদ্ধের অবসান মানেই দখলদারিরও সমাপ্তি।

আরাগচি সতর্ক করে বলেন, এখন থেকে লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো হামলা এবং লেবাননের ভূখণ্ডে তাদের দখলদারি অব্যাহত রাখা আমাদের দৃষ্টিতে সমঝোতার স্মারক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।