উচ্চ বেতনে ভালো কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে গত ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার সূত্র ধরে তারা ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছেন স্বজনরা।
পরিবারের অভিযোগ, রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দালাল চক্র তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। তবে সরকারি বা কূটনৈতিক কোনো সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
দুই যুবক হলেন উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ (২৮) এবং কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মফিজ (২৩)।
দুই যুবকের স্বজনরা বলেন, গত ৭ মে মফিজ চাঁদপুরের এক দালালের মাধ্যমে এবং আরিফ তার চাচাতো ভাই আমিনুর ইসলাম সোজার মাধ্যমে রাশিয়ায় যান। মফিজকে রাজমিস্ত্রি এবং আরিফকে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা পরিবারের সদস্যদের জানান, প্রতারণার মাধ্যমে তাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে।

মফিজ ও আরিফের স্বজনরা আরও বলেন, গত ২৯ মে মফিজ ও আরিফের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ড্রোন হামলায় ওই দুই যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে বিষয়টি তারা জানতে পারেন বলে দাবি করেন।
মফিজের মা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি সে আর বেঁচে নেই। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফেরত চাই। যারা তাকে বিদেশে নিয়ে গেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’আরিফের বাবা তারা মিয়া বলেন, ‘ঋণ করে ১৬ লাখ টাকা খরচ করে আমিনুর ইসলাম সোজার মাধ্যমে আমার ছেলেকে রাশিয়াতে পাঠিয়েছিলাম। সে কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি, সে আর বেঁচে নেই। আমি আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই এবং দোষীদের বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুর ইসলাম সোজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (আরিফ) বিদেশে নিয়ে যাইনি। আরএস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়েছে। আমি শুধু সহযোগিতা করেছি।’
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, দূতাবাসের মাধ্যমে না গিয়ে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।