Image description

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৫ জুন) সংস্থার উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই বিষয়ে শিগগির সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

আকতারুল বলেন, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর বেনজীরকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র প্রস্তুত করার কাজ চলছে। মামলাগুলোর নথিপত্র চূড়ান্ত হলে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন বেনজীর আহমেদ। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে জারি করা ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’–এর ভিত্তিতে তাঁকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুবাই পুলিশ গত ১২ জুন বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়।

ট্রাইব্যুনালে ১০ মামলা

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যার অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত এবং দুদকের আলাদা আর্থিক অপরাধের মামলার নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনা অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। তাঁর বিষয়ে তিনটি পরোয়ানা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা ইন্টারপোলে পাঠানো হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে একটি মামলার আইনি কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনার মামলার তদন্তও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেনজীরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিগগির এই অভিযোগ আদালতে জমা দেওয়া হবে।

আমিনুল ইসলাম জানান, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আরও ছয় থেকে সাতটি মামলার তদন্ত চলছে এবং বেনজীর একাধিক গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তিনি বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে সেগুলো ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় দুদক তাঁর বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করে। ফেরত আনার পর বেনজীরকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।