Image description

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য সমঝোতা বা চুক্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

লেভান্ট ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সামি নাদের বলেছেন, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুহূর্ত। তার ভাষায়, ইসরাইল হিজবুল্লাহ-সংক্রান্ত যুদ্ধকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বাইরে রাখতে চাইলেও ইরান উল্টো এই বিষয়টিকে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত রাখতে আগ্রহী।

 

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাদের বলেন, ইসরাইল হিজবুল্লাহ ফ্রন্টকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার বাইরে রাখতে জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরান এই সংযোগ বজায় রাখতে চায় এবং এটিকে চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার একটি শর্ত হিসেবে দেখছে।

 

তিনি আরও বলেন, এ কারণে বৈরুতের এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে দিতে পারে।

নাদেরের মতে, হামলার পেছনে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বর্তমানে দেশটি নির্বাচনি প্রচারণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছে।

 

তার দাবি, কট্টর ডানপন্থীরা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর মোকাবিলায় যথেষ্ট কঠোর না হওয়ার অভিযোগ তুলেছে। পাশাপাশি লেবাননে সংঘাত আরও না বাড়ানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান মেনে নেওয়ার কারণেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

 

নাদের বলেন, হিজবুল্লাহকে ঘিরে অবস্থান এখন ইসরাইলের নির্বাচনি রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

 

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইসরাইলের এই হামলার জবাবে ইরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়বে নাকি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকবে।

 

সূত্র: আল জাজিরা